
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে আর বাকি মাত্র ২২ দিন। আসন্ন এ নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের অর্ধেকের বেশি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। চারঘাট ও বাঘা উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৬ আসন। এ আসনে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে চারঘাটে। এমন পরিস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং হিসেবে দেখছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনে আসন্ন নির্বাচনে ১১৯টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেক ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে চারঘাট উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সর্বাধিক। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বাধিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মোতায়েন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন চারঘাট-মডেল থানার ওসি হেলাল উদ্দিন ফারুকী
পুলিশ জানায়, দুটি উপজেলার ভোট কেন্দ্র গুলোকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। বিগত নির্বাচনে সহিংসতার পরিসংখ্যান ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৬৩ টি আর ঝুঁকিপূর্ণ ৫৬ টি। ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্র গুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে। ভোটগ্রহণ শুরু থেকে ফলাফল গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশের বিশেষ টিম অস্ত্রসহ দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্র দখল, জালভোট ও সহিংসতা প্রতিরোধে সর্বাধিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ভোটার সংখ্যা, আধিপত্য বিস্তার, থানার দূরত্ব, দুর্গমতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো বিবেচনায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র গুলোকে চিহিৃত করা হয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে একাধিক বৈঠকে নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
এবারের নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে দাবি করে পুলিশ বলছে, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে যেকোনও মূল্যে আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখতে হবে। কোনও বিশৃঙ্খলা হলে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ ও প্রস্তুতি প্রসঙ্গে সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল খালেদ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনামাফিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং জনমনে আস্থা ও স্বস্তি আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। নির্বাচনে নাশকতা সৃষ্টি করতে পারে এমন ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর বিষয়ে নজরদারী বাড়ানো হচ্ছে।
নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধে তিনি বলেন, নির্বাচন এলে রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এটা বলা যায়। তবে, এবার যেন এমন কিছু না হয় সেজন্য পুলিশ মাঠে খুবই সতর্ক রয়েছে। এছাড়া সেনাবাহিনী ও বিজিবি রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)