
জয়পুরহাটে জামায়াত পরিচয়ে বিএনপিতে যোগদান করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক, জামায়াত বলছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এটা জামায়াতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ তৈরির অপকৌশল।
জেলার সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নে ২০নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগদান করা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। যোগদানকারীরা নিজেদের জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের নেতা-কর্মী দাবি করলেও জেলা জামায়াত বিষয়টিকে পুরোটাই ‘সাজানো নাটক’ এবং ‘রাজনৈতিক প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছে,।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, মাসুদ রানা প্রধান নবাগতদের ফুল দিয়ে বরণ করছেন এবং তারা স্বেচ্ছায় যোগ দিয়েছেন কি-না তা জানতে চাইছেন। জবাবে নবাগতরা জানান, কোনো বলপ্রয়োগ ছাড়াই স্বেচ্ছায় তারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
জামালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন বলেন, যে,২০ জন বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তারা আগে জামায়াতের রাজনীতি করতেন।
এদিকে বুধবার জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও মিডিয়া সেক্রেটারি হাসিবুল আলম লিটন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জামায়াতের ২০ জন নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন- এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও সাজানো নাটক প্রচার করা হয়েছে। উল্লেখিত ব্যক্তিদের কেউই কখনো জয়পুরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামী বা এর সহযোগী কোনো সংগঠনের সদস্য, কর্মী কিংবা অনুসারী ছিলেন না। তারা দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি, কৃষক দল, আইডিয়াল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। তাদেরকে জামায়াতের পরিচয় দিয়ে পুনরায় বিএনপিতে যোগদান করানো রাজনৈতিক প্রতারণা, মনগড়া অপপ্রচার এবং জনমত বিভ্রান্ত করার একটি নোংরা প্রচেষ্টা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ ধরনের বানোয়াট, মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বিএনপির কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এটি একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার এবং জামায়াতের বিরুদ্ধে জনমনে রিতিমতো বিদ্বেষ তৈরির অপকৌশল।
এবিষয়ে জামালপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির দেলোয়ার হোসেন বলেন, এটি শুধু মিথ্যাচার নয়, এটি পুরোপুরি সাজানো নাটক। নিজেদের দলীয় মানুষকে জামায়াতের কর্মী সাজিয়ে পুনরায় যোগদান দেখানো রাজনৈতিক অনৈতিকতার চরম উদাহরণ।
এবই বিষয়ে জানতে চাইলে জয়পুরহাট-১ আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান বলেন, জামায়াত তো তাদের কথা বলবেই। জামায়াত যে নাটক করতেছে না এর ব্যাখা কে দেবে? তারা (বিএনপিতে যোগদান করা ২০ জন) শিবিরের সাথী ছিল, দায়িত্বে ছিল জনসম্মুখে বলেছে। তারা স্বেচ্ছায় এসে বিএনপিতে যোগদান করেছেন। তার ছবি ও ফুটেজ আছে।
উল্লেখ্য,মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি-২০২৬) রাতে সদর উপজেলার শুকতাহার মোড়ে এক দোয়া মাহফিল ও যোগদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে জয়পুরহাট-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাসুদ রানা প্রধানের হাত ধরে ২০ জন নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগ দেন। মাসুদ রানা প্রধান তাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন। তাদের বেশিভাগই জামায়াতে ইসলামী ও শিবির করতেন বলে পরিচয় দেন।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)