জয়পুরহাট-২ আসনে জোটে থেকেও জামায়াত-এবি পার্টি মুখোমুখি । আসন্ন ত্রয়োদশ মহান জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ আসনে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সমীকরণ দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রে ‘১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের’ শরিক হলেও স্থানীয় পর্যায়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। জোটের একক প্রার্থী ঘোষণার পরও প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করে নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে থাকায় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১০ দলীয় জোটে জামায়াত ও এবি পার্টি উভয়েই অন্তর্ভুক্ত। জামায়াতে ইসলামী জয়পুরহাটের দুটি সংসদীয় আসনের কোনোটিই জোটভুক্ত শরিক দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেয়নি। দুটি আসনেই এবি পার্টির দলীয় প্রার্থীরা মনোনয়ন দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে দুটি আসনেই এবি পার্টির প্রার্থীতা বাতিল করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিলে দুটি আসনেই এবি পার্টির প্রার্থীতা ফিরে পান। জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনে এবি পার্টি মনোনীত প্রার্থী সুলতান মো: শামছুজ্জামান তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেও জয়পুরহাট-২ (কালাই,ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনে এসএ জাহিদ তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। তিনি দলীয় প্রতীক ঈগল নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর এসএম রাশেদুল আলম। কেন্দ্রীয়ভাবে দল দুটি জোটগত থাকলেও জয়পুরহাট-২ আসনে এই বন্ধুত্বের ছিটেফোঁটাও দৃশ্যমান নয়। নির্বাচনী এলাকায় প্রচার-প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ এবং জনসংযোগে এসএ জাহিদ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি-২০২৬) কালাই উপজেলার মোসলেমগঞ্জ বাজারে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গেলে এবি পার্টির প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে জামায়াত কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরী হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত উপস্থিত হয়। সেখানে আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগে এক জামায়াত কর্মীর কাছ থেকে মুচলেকা নেয় প্রশাসন।
ওই ঘটনায় এবি পার্টির প্রার্থী এসএ জাহিদ ফেসবুক লাইভে এসে জামায়াতের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অশোভন মন্তব্য করেন। তিনি ওইদিন রাত সাড়ে ৮টায় কালাই প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেন। দলীয় প্রার্থীর মিথ্যাচার ও অশোভন মন্তব্য করায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম অসন্তোষ ।
ওই ফেসবুক লাইভে এসএ জাহিদ বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা জয়পুরহাট-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী ১০ দলীয় জোটের কোনো প্রার্থীর সাথে বা কোনো নেতার সাথে এখনো মিটিং করেনি এবং এই জায়গাতে কোনো সময় সমঝোতা হয়নি, তারা স্থানীয়ভাবে আমাদেরকে একটা ফোনও করেনি। তারা (জামায়াত) যে প্রচারপত্রগুলো তৈরি করেছে সেই প্রচারপত্রে ১০ দলের নামও লেখেনি। এমতবস্থায় আমাদের জয়পুরহাট-২ আসন স্থানীয়ভাবে অমীমাংসিত রয়েগেছে। এখানে এবি পার্টির পক্ষ থেকে আমার মনোনয়ন দাখিল করা ছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমার সাথে যোগাযোগ করেনি এবং ১০ দলীয় জোটের সাথে সমন্বয় করেনি। এমতাবস্থায় আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার করার সময়ও পাইনি। আমার মার্কা ঈগল পাখি, এই আসন থেকে আমি নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমি বৈধ একজন প্রার্থী।
তিনি বলেন, আমার প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী, আমার বড় ভাই। আমার বড় ভাই জামায়াতে ইসলামী, তার ছোট ভাইয়ের মাইকটাই কেড়ে নিয়েছে, ভাঙচুর করেছে। হয়তোবা এই আসনে জামায়াতের বড় ভাই ভয় পেয়ে গেছে এসএ জাহিদের জনপ্রিয়তার কাছে। আমি আমিরে জামায়াতের কাছে, আমাদের জামায়াতের বড় ভাইদের কাছে বলতে চাই আমাকে সাপোর্ট দেন। আমি জয়পুরহাট-২ আসন যদি আপনাদেরকে উপহার না দিতে পারি, তবে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দেব আমি। আর যদি সবুজ ভাই ঠকে যায়, তাহলে আমার নির্বাচনী সকল খরচ তারা দিবে কি-না আমি এরকম একটা প্রতিযোগিতায় যেতে চাই।
এসএ জাহিদ ওই লাইভে জামায়াতের প্রার্থীকে কটাক্ষ করে আরও বলেন, এই আসনের জামায়াতে যে প্রার্থী সে একদম অপদার্থ, মূর্খ, তা-না হলে সে আমার বৈধ নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিতে পারে না। এই মূর্খ, অপদার্থ একজন এমপি প্রার্থী জামায়াত দিয়েছে, এটা যাচাই-বাছাই করার জন্য আমি অনুরোধ করব আমিরে জামায়াতসহ সমগ্র বাংলাদেশকে।
জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কালাই উপজেলা সেক্রেটারি আব্দুল আলীম বলেন, তিনি (এসএ জাহিদ) নিজেকে জাহির করা জন্য মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। তিনি দলের নিয়মও মানছেন না, জোর করে আছেন। ১০ দলের ভেতরে তার সম্পর্ক নেই। তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে একজন বৈধ প্রার্থী, সেজন্য তিনি নির্বাচন করতেই পারেন। এতে আমাদের বাধা দেওয়ার কিছু নেই। তার কোনো মাইক কেড়ে নেওয়া বা ভাঙচুর করা হয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে জোটে তিনটি আসন চুক্তি হয়েছে, সেটি কেন্দ্র থেকে ছেড়েও দিয়েছেন। আর আমাদের এখানে জামায়াতের প্রার্থী তাকে কল করেছিল, সে কোনো সাড়া দেয়নি।
এবি পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি সুলতান মো: শামছুজ্জামান বলেন, শেষ পর্যায়ে ১০ দলীয় জোটের সাথে একত্রিত হওয়ার কারণে সংগঠনের সিদ্ধান্ত মেনে আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছি। কিন্তু উনি (এসএ জাহিদ) করেননি। এটা সারাদেশের অনেকেই কেন্দ্র সংগঠনের (এবি পার্টি) সাথে বিদ্রোহীভাবে অবস্থান করেছেন। দুই আসনের প্রার্থীও এমন একটা বিদ্রোহী। সারাদেশের এরকম ১০-১১ জন বিদ্রোহী আছেন এবং তিনিও বিদ্রোহী হিসেবে ওখানে (জয়পুরহাট-২ আসন) আছেন।
এম.এ.জলিল রানা,জয়পুরহাট ২৭ জানুয়ারী-২০২৬।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)