
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী-মধুখালী) আসনে কালো টাকা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার খানের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভোটের মাঠকে অস্থিতিশীল করারও পাঁয়তারা চালাচ্ছেন তিনি।
বুধবার রাতে বিদেশি পিস্তলসহ আবুল বাশার খানের অনুসারী মাহাবুব হাসান সজিবকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টাকালে স্থানীয়রা বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আসনটির বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম অভিযোগ এনে বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পরিকল্পিতভাবে অস্ত্র ও অর্থের ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে।’
পাশাপাশি নাসির অভিযোগ করে বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার ২০০ কোটি টাকার ঋণগ্রস্ত এবং তার অনেক পাওনাদার রয়েছে।’
এদিকে বুধবার বিকালে মধুখালীর জাহাপুর ইউনিয়নে আবুল বাশারের দুই সমর্থক রবিন ও আরিফ নগদ টাকা বিতরণ ও ব্যানার টাঙানো নিয়ে স্থানীয় বিএনপির সমর্থকদের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মারামারিতে মাদকাসক্ত রবিন ও আরিফকে গণধোলাই দেয় স্থানীয়রা।
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাইজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনা শুনে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। তবে কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় আটক করা সম্ভব হয়নি।’
অন্যদিকে বুধবার অবৈধ অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার হওয়া মাহবুব হাসান সজিবকে স্থানীয়ভাবে যুবদল নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
সেনা ও পুলিশ সূত্র জানায়, সজিব আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় ভীতি সৃষ্টি ও প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে অবৈধ অস্ত্র বহন করছিলেন। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
আরও জানা যায়, সজিব ফরিদপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার খানের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং তার অনুগত হিসেবেই এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। সে মূলত স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছিল। এ ঘটনায় অবৈধ অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
ফরিদপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লা বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম নির্বাচনে কালো টাকার বিস্তার ঘটবে না, তবে সেটা থেমে নেই। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধ করছি— কেউ টাকা দিয়ে ভোট কিনতে গেলে তাদের প্রতিহত করুন।’
ইলিয়াস মোল্লা বলেন, ‘প্রশাসন এখনই যেন অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোড়ালো করে। না হলে আবুল বাশারদের মতো প্রার্থীরা নির্বাচনের দিন অস্ত্রের ঝনঝনানি বাড়াবে।’
এনসিপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুরের অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশার খান নির্বাচনী এলাকায় বিপুল পরিমাণ কালো টাকা ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছেন। তার ভাষ্য, টাকা ছড়িয়ে সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করার পাশাপাশি সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আমাকে জানিয়েছে, ‘‘আবুল বাশারের কালো টাকার দাপটে এ আসনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে’’।
স্থানীয়রা বলছে, আবুল বাশারের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত সন্ত্রাসী সজিবের অস্ত্রসহ গ্রেফতার প্রমাণ করে যে তিনি পরিকল্পিতভাবেই শক্তি প্রদর্শনের পথে হাঁটছেন। তাদের মতে, অস্ত্র, টাকা ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচনী মাঠ দখলের এই কৌশল গণতন্ত্রের জন্য ভয়ংকর বার্তা দিচ্ছে। তারা মনে করেন, এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আবুল বাশারের মতো প্রার্থীদের কারণে ফরিদপুর-১ আসনে ভোটের দিন সহিংসতা ও অনিয়ম আরও বাড়তে পারে।
বিএনপির প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-১ আসনে, বিশেষ করে মধুখালী উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বাশার কালো টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন জেলা থেকে লোক ভাড়া করে এনে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তিনি কিছু মিডিয়াকে ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অন্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। নাসিরুল ইসলামের দাবি, জামালপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তি বর্তমানে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাশারের পক্ষে মধুখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘোরাফেরা করছে, যার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রমূলক ও অশুভ উদ্দেশ্য রয়েছে।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)