
খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো মাইক্রোবায়োলজি অলিম্পিয়াড সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ অলিম্পিয়াডে দেশের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
২ ফেব্রুয়ারি সোমবার প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাইক্রোবায়োলজি বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি, বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানচর্চা বৃদ্ধি এবং গবেষণামুখী চিন্তাধারা বিকাশের লক্ষ্যেই এই অলিম্পিয়াডে প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ ইউসুফ প্রধান পৃষ্ঠপোষক, মাননীয় সদস্য সচিব প্রফেসর ডা. রুবাইয়াত ফারজানা হোসেন পৃষ্ঠপোষক এবং উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আশরাফ আলী প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মঞ্জুরুল করিম। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মাইক্রোবায়োলজি (BSM)-এর জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তার বক্তব্যে মাইক্রোবায়োলজির গুরুত্ব, দেশের গবেষণার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
ইন্ডাস্ট্রি ও গবেষণা খাত থেকে বিশেষ আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালস-এর মোছা: কামরুন্নাহার, হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস-এর ড. ইব্রাহিম খলিল এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)-এর প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার ড. সাইফুল ইসলাম। তারা শিল্প ও গবেষণাক্ষেত্রে মাইক্রোবায়োলজির বাস্তব প্রয়োগ, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. হোসেন রেজা, বায়োমেডিকেল সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ফজলে রাব্বি শাকিল আহমেদ, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. রণজিৎ কুমার, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রফেসর ডা. আব্দুল্লাহ আক্তার আহমেদ এবং বিভাগীয় প্রধান জনাব মো: বাবুল আক্তার।
অলিম্পিয়াডে বিভিন্ন ধরনের কুইজ প্রতিযোগিতা, উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন এবং গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানমূলক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
এই আয়োজনের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, ইন্ডাস্ট্রি, শিক্ষা, একাডেমিক ও গবেষণা খাতের সমন্বয়ের মাধ্যমেই বিজ্ঞানচর্চার টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও গবেষণাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলাই ছিল এই অলিম্পিয়াডের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে আইকিউএসি ডিরেক্টর প্রফেসর ড. মোস্তফা মাহমুদ হাসান, রেজিস্ট্রার জনাব মো. মিজানুর রহমান, আইটি অ্যাডমিন জনাব মো. আরিফুজ্জামান, বিসিবিটি ভয়েস অ্যান্ড ভিশন টিম, এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করেন। সম্মানিত ফ্যাকাল্টি সদস্য, শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রথমবারের এই মাইক্রোবায়োলজি অলিম্পিয়াড একটি সফল ও স্মরণীয় আয়োজনে পরিণত হয়েছে।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)