
বগুড়ার শেরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আহসান হাবিব (৪৬) নামের এক ফায়ার ফাইটার। শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে শেরপুরের মহিপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আহসান হাবিব গাইবান্ধার সাঘাটা এলাকার মৃত আবেদার রহমানের ছেলে। তিনি মহিপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে কর্মরত ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত ২টার দিকে খবর আসে যে চান্দাইকোনা সংলগ্ন বগুড়া বাজার এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়া মাত্রই মহিপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত উদ্ধার অভিযানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।
স্টেশন থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটি বের করার জন্য আহসান হাবিব রাস্তায় দাঁড়িয়ে সংকেত দিচ্ছিলেন। এ সময় তিনি ঢাকা মেট্রো-ন ১৯-২১৪৯ নম্বর সংবলিত একটি বগুড়াগামী ট্রাকের গতি রোধ করেন যাতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িটি নিরাপদে বের হতে পারে। ট্রাকটি থামার পরপরই পেছন থেকে গাইবান্ধাগামী ‘আহসান পরিবহন’ নামে একটি দ্রুতগতির বাস ওই ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার চোটে ট্রাকটি সামনের দিকে ছিটকে গিয়ে দায়িত্বরত আহসান হাবিবের ওপর দিয়ে উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সহকর্মীকে হারিয়ে মহিপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের অন্যান্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন। কর্তব্যরত অবস্থায় এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গেছেন তার সহকর্মীরা। শেরপর হাইওয়ে পুলিম ক্যাম্পের ইনচার্জ রইছ উদ্দিন বলেন, ঘাতক বাস ও ট্রাকটিকে আটক রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বগুড়ার শেরপুর শহরের ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের হামছায়াপুর এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় রাত ১টার দিকে শাহ বন্দেগি ইউনিয়নের খন্দকারটোলা মুন্সিপাড়া এলাকার আমিনুল ইসলামের স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে (৩৯) অজ্ঞাত একটি প্রাইভেট কার ধাক্কা দেয় এতে খাদিজা খাতুন প্রায় ৩০ হাত দূরে ছিটকে পড়েন রাস্তার ওপর। এরপর পেছনের চাকাটি তার দে'হে'র ওপর দিয়ে চলে যায়।
র'ক্তা'ক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয়রা। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
অপরদেকি, শনিবার রাত ৯টার দিকে গাড়িদহ ইউনিয়নের দশ মাইল এলাকায় এক ভয়াবহ ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪ জন আহত হেয়েছে। আহতরা হলেন, আরজু (২৮) রনবীরবালা এলাকার ও বিকেল বাজার এলাকার শুভ (২৮) নামের মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। শুভকে শজিমেক হাসপাতাল বগুড়ায় আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষনিক অন্যেদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করে একটি শব্দ হয়। তরে ধারনা করা হচ্ছে মোটরসাইকেকে অজ্ঞাত গাড়ি ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী রাস্তায় ছিটকে পড়েন। দুর্ঘটনার পরপরই পেছনের অন্যান্য গাড়িগুলো তাৎক্ষণিক ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোকে সজোরে ধাক্কা দিলে এই ত্রিমুখী সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহী শুভকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোরতাজা নুর জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন: আহত যুবককে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ট্রাক এবং দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি আমাদের হেফাজতে রয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে পুলিশ কাজ করছে।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)