
সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী সিরাজগঞ্জের কৃতিসন্তান জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট শিল্পপতি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সিরাজগঞ্জ শহরের হোসেনপুরে ১৯৫০ সালের ১০ মে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা প্রখ্যাত আইনজীবী ও বাংলার মুসলিম জাগরণের অন্যতম নেতা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ছিলেন সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য ও অবিভক্ত বাংলার পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি এবং তদানীন্তন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী।
মেধাবী ছাত্র ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে অনার্সসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ছাত্রজীবনে তিনি প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতিসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি ১৯৬৯ সালের আইয়ুববিরোধী গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ দেশের প্রতিটি প্রধান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। রাজনীতির দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া প্রবীণ রাজনীতিবিদ ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ১/১১ সরকারের সময় সপরিবারে কারাগারে ছিলেন।
আওয়ামী লীগের করা একাধিক মামলা, নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি বিএনপি ছেড়ে যাননি। বরং দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আদেশ নির্দেশে বিএনপিকে আঁকড়ে রয়েছেন। পিতা মরহুম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের বড় ছেলে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যিনি তার বাবার মতো সাহসী, সৎ রাজনীতিবিদ ও সিরাজগঞ্জের সিংহপুরুষ হিসেবে খ্যাত। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও রুমানা মাহমুদের সংসারে এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু কর্মজীবনে একজন সফল ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি। তিনি এ্যাপেক্স উইভিং এ্যান্ড ফিনিসিং মিলস লি, এ্যাপেক্স ট্রেড এ্যান্ড কমার্স লি, এ্যাপেক্স ইনফোটেক লি, এ্যাপেক্স একসেসরিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং হোম টেক্সটাইল লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও এ্যাপেক্স ট্যানারি লিমিটেড, এ্যাপেক্স ফুড লিমিটেড এবং এ্যাপেক্স স্পিনিং ও নিট মিলস লিমিটেডের পরিচালনা পরিষদের পরিচালকও ছিলেন।
এছাড়া তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বস্ত্রখাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাইভেট কোম্পানিও প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ঢাকা শিল্প ও বণিক সমিতি এবং বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থার পরিচালক ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ পুলিশ কমিশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর) আসনে চারদলীয় ঐক্যজোটের বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে তৃতীয়বারের মতো বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি চতুর্থ ও পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। তিনি চারদলীয় জোট সরকারের সময় প্রথমে বিদ্যুৎ এবং পরে কৃষি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সদালাপী, ধর্মভীরু ও পরোপকারী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দুস্থ, দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের সাহায্যার্থে সর্বদাই তার হাত প্রসারিত করে থাকেন। তিনি রাষ্ট্রীয় সফর এবং বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য প্রতিনিধি ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, ইতালি, আর্জেন্টিনা, চীন, জাপানসহ বিশ্বের বহু দেশ সফর করেছেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সহধর্মিণী রুমানা মাহমুদ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তথা চারদলীয় জোটের মনোনয়নে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ছোট ভাই মঞ্জুর হাসান মাহমুদও বিএনপির রাজনীতি করেন। তিনি ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৮৯ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচন করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)