লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পূর্ব উপকূলে পাঁচজনের মরদেহ ভেসে এসেছে। মৃতদের মধ্যে দুজন নারী রয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ বলছে, সাগরের ঢেউ থামলেও আরও মরদেহ তীরে ভেসে আসতে পারে।
শনিবার ত্রিপোলির পূর্বে অবস্থিত উপকূলীয় শহর কাসর আল আখিয়ারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে মরদেহগুলো দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
আল-আখিয়ার পুলিশ স্টেশনের প্রধান কর্মকর্তা হাসান আল-গাওইল জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিদের। স্থানীয়রা বলছেন, একটি শিশুর মরদেহও তীরে ভেসে এসেছিল। কিন্তু প্রবল ঢেউয়ের কারণে সেটি আবার সাগরে ফিরে গেছে। শিশুটির মরদেহ খুঁজে বের করতে কোস্ট গার্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যে মরদেহগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো অক্ষত রয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সাগরে আরও মরদেহ থাকতে পারে। মরদেহগুলো উদ্ধারের জন্য লিবিয়ান রেড ক্রিসেন্টকে জানানো হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, পশ্চিম ত্রিপোলির জুওয়ারা উপকূলে ৫৫ জন আরোহী নিয়ে একটি নৌকা ডুবে যাওয়য়র ঘটনা ঘটে। এতে দুই শিশুসহ ৫৩ জন অভিবাসী নিহত বা নিখোঁজ হন। তারা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
এর আগে গত সপ্তাহে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লিবিয়ায় অবস্থানরত অভিবাসীরা চরম মানবাধিকার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য হওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া গেছে। অল্পবয়সী মেয়েরাও এসব সহিংসতার শিকার হচ্ছেন।
২০১১ সালে ন্যাটো সমর্থিত অভ্যুত্থানে লিবিয়ার শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৪ সাল থেকে দেশটি কার্যত পূর্ব ও পশ্চিম অংশে বিভক্ত। এই অস্থির পরিস্থিতির সুযোগে লিবিয়া ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপমুখী অভিবাসীদের প্রধান ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে। সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে হাজারো মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে পাড়ি জমাচ্ছেন।
সূত্র: রয়টার্স
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)