জমি বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে সিরাজগঞ্জের ছোনগাছা ইউনিয়নের ছোনগাছা উত্তরপাড়ায় এক বিঘা জমির কলাগাছ, কাঠালগাছ, জামগাছ, মালটা, লিচু ও পেঁপে গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির দুই শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে প্রতিপক্ষরা। ভুক্তভোগীরা বলছে, যারা গাছ কেটেছে তারা প্রত্যেকেই জামায়াতের কর্মী। চোখের সামনে রামদা দিয়ে গাছগুলো কাটলেও ভয়ে কিছুই বলতে পারি নাই। ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ শুধু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও নেয়নি কোন আইনী ব্যবস্থা নেয়নি। সরকার যেখানে গাছ লাগানোর জন্য উদ্ধুদ্ধ করছে সেখানে গাছ কাটলেও পুলিশ ব্যবস্থা না নেয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে?

সরেজমিনে গেলে ভুক্তভোগী আমিনুল ইসলাম ও নজরুল জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে বাপ-দাদারা জমি কিনেছে আর আমরা ভোগদখল করছি। জায়গায়টিতে কলাগাছ, কাঠালগাছ, জামগাছ, মালটা, লিচু, আদাফল ও পেঁপে গাছসহ চাষ করা হচ্ছে। সম্প্রতি এই জমি পাশ্ববর্তী শহিদুল ইসলাম নিজেদের দাবী করলে বিভিন্ন বৈঠক বসলে তারা বৈঠকের সিদ্ধান্ত মানেনি। বৃহস্পতিবার সকালে শহিদুল, আজম, সাইফুল, হযরত, মনিজা খাতুন ও আর্জিনা খাতুন রামদাসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে ক্ষেতে এসে সব গাছ কেটে ফেলে। এখনো রামদা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে আমাদেরকে হত্যা করা জন্য।

পুলিশে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পর এসে ঘুরে গেছে। কিন্তু কোন ব্যবস্থা নেয়নি। আমি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দাবী জানাচ্ছি।
বৃদ্ধ আব্দুল মজিদ কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, আমি বাগানের সামনে বসেছিলাম। আমার চোখের সামনে এতো সখের গাছগুলো একে একে কেটে ফেলে। ভয়ে আমি কোন কিছুই বলতে পারি নাই।
এলাকাবাসী কামরুলসহ অন্যান্যরা জানান, জমি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে। তবে গাছগুলো কাটা অপরাধ। আমরা অপরাধী শাস্তি দাবী করছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্তরা গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, জমি দখল করতে গেলে গাছগুলো কাটতে হবে। এই জন্যেই কেটেছি। তবে গাছকাটা ঠিক হয়নি।

এ বিষয়ে সদর থানার উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগ পাবার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার বিষয়টি সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি ওসিকে অবগত করা হয়েছে। এখন বাদী মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, বিষয়টি জানতে পেরেছি। থানাকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলে দেয়া হবে।
প্রকাশক : সোহেল রানা সম্পাদক: আব্দুস সামাদ সায়েম
©২০১৫-২০২৫ সর্বস্ত্ব সংরক্ষিত । তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিবন্ধনকৃত (নিবন্ধন নং-২১০)