সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
মুন্সিগঞ্জে লঞ্চে অসুস্থ নবজাতককে কোস্ট গার্ডের জরুরি চিকিৎসা, প্রাণে বাঁচল শিশু ভিসা প্রতারণা: কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় মানবপাচারকারী চক্র: র‌্যাব ইবি অধ্যাপক মতিনুর রহমানের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ জাল সনদ প্রদানের অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক কারাগারে বগুড়ার শেরপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে দেবরের বিরুদ্ধে মামলা গুলশান থানার নতুন ওসি দাউদ হোসেন মুন্সিগঞ্জে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ২০১ কোটি টাকার নিষিদ্ধ জাল জব্দ সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ১৩ লক্ষ ১৫ হাজার টাকার জাল নোটসহ দুইজন গ্রেফতার সিরাজগঞ্জে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে আদালতে শতকোটি টাকার মানহানির মামলা ডিএনসির অফিসার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচন সভাপতি রাজিউর, সাধারণ সম্পাদক রাজিব মিনা
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

ইবি অধ্যাপক মতিনুর রহমানের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬


আওয়ামী সরকার পতনের পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি হওয়ার দৌড়ে ৭ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মতিনুর রহমান। এমনই অবস্থায় তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও ইবিতে জিয়া পরিষদ ভেঙে করা সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মতিনুর রহমানের বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকা ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

জিয়া পরিষদের একাধিক শিক্ষক ও বিগত দিনে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ড. মতিনুর রহমান ২০০১ সালের ১৭ আগস্ট মদ খেয়ে গভীর রাতে ছাত্রী হলের সামনে প্রায় বিবস্ত্র অবস্থায় মাতলামি করতে থাকেন। সেসময়ে মাতাল অবস্থায় হলে ঢোকার চেষ্টা, মদের বোতল দিয়ে পুলিশ পিটানো ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করারও অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে বাধা ও সরকারি সম্পত্তি বিনষ্টের অভিযোগে ইবি থানায় মতিনুরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে পুলিশ।

এছাড়া, ভালো ফলাফলের বিনিময়ে নিজ বিভাগের এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরে ওই ছাত্রীকে ভালো ফলাফলের প্রলোভন দেখিয়ে বশে আনেন তিনি। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক করারও স্বপ্ন দেখান মতিনুর। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে ওই ছাত্রীর রেজাল্ট ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়। বেপরোয়া জীবনসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে হল থেকে ২০১৪ সালের ২৪ মার্চ ওই ছাত্রীকে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। এদিকে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ড. মতিনুরের অধীনে ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে সাজিদ হোসেন নামের এক এম ফিল গবেষক ভর্তি করার ঘটনায় ক্যাম্পাসে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এছাড়া বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্স এমডিএস’র সমন্বয়কারী থাকা অবস্থায় অর্থ-আত্মসাতের ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় অধ্যাপক মতিনুরকে পদচ্যুত করা হয়। জানা যায়, জোট সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মতিনুর রহমান বিভিন্ন সময় বিএনপিপন্থিদের ভেতর দলাদলি ও ভাঙন সৃষ্টি করেন। প্রথমে তিনি জিয়া পরিষদ ভেঙে পেশাজীবী পরিষদ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এরপরে আবার জিয়া পরিষদে ফিরে আসেন। সম্প্রতি জিয়া পরিষদ ভেঙে সাদা দল তৈরি করেন।

অভিযোগ ওঠে, আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের যোগসাজশে তিনি শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে সাদা দলের প্যানেল দেন। ফলে, বিএনপিপন্থিদের ভোট বিভক্ত হয়ে শিক্ষক সমিতি হারায় ইবির জাতীয়তাবাদীরা। এদিকে জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ড. এমতাজ হোসেনও ভিসি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এমন তথ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ড. মতিনুর রহমান বলেন, গুপ্ত জামায়াত-শিবির বাহিনী আমার বিরুদ্ধে এসব বানোয়াট অভিযোগ দিয়েছে। ২০০১ সালের একটি ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ২০০২ সালে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। দীর্ঘ ২৫ বছর পর আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ষড়ন্ত্রের অংশ।

উল্লেখ্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলীনূর রহমান, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. নজিবুল হক, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন এবং আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর