রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার করতে যাওয়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ছিনতাইকারীদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে একজন ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। এটি ২০২৪-পরবর্তী সময়ে প্রথম কোনো ঘটনা।
পুলিশ বলছে, মোটরসাইকেল দিয়ে রাতের অন্ধকারে রাজধানীজুড়ে ঘুরে ঘুরে তারা ছিনতাই করত। অটোরিকশা যাত্রী ও পথচারীদের মোবাইলসহ মালামাল ছিনতাই করে পালিয়ে যেত। এই চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ছুরি, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও খেলনা পিস্তল এবং ছিনতাই করা বিভিন্ন মডেলের ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (১১ মে) ভোরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো—পলাশ ও সাকিব, তারা আপন দুই ভাই। আটককৃতরা গাজীপুর জেলার টঙ্গী পূর্ব থানার হেমাদিঘী টিএনটি মোল্লা গ্যারেজ এলাকার লোকমান সরকারের ছেলে। এ ছাড়াও গ্রেফতার হওয়া আরেক ছিনতাইকারী বিপ্লব হোসেন তাদের আপন বোনজামাই।
পুলিশ জানায়, ধানমন্ডি ২৭ এলাকায় ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেলে করে ছিনতাই করছিল। এ সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে ছিনতাইকারীরা মোহাম্মদপুর এলাকার দিকে দৌড়ে পালায়। পুলিশ তাদের পিছু নিলে মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকায় গিয়ে ছিনতাইকারীরা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে ৪ রাউন্ড গুলি করলে একজন গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় তিন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারের খবরে থানায় ছুটে এসেছেন এক ভুক্তভোগী। পরে জানা গেল, তিনিও দুদিন আগে ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন। তিনি পুলিশ স্টাফ কলেজে কর্মরত পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, “গত পরশুদিন (শনিবার) রাতে ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে অটোরিকশা দিয়ে যাচ্ছিলাম। এ সময় পেছন থেকে একটি কালো মোটরসাইকেল এসে আমার ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে যায়। আমি তাদের ধাওয়া করেও ধরতে পারিনি।”
তিনি আরও বলেন, “প্রথমে আমি ভেবেছিলাম আমার রিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লেগেছে। আমার ব্যাগ মনে হয় মোটরসাইকেলের সঙ্গে লেগে গেছে। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই দেখলাম আমার ব্যাগ টান দিয়ে নিয়ে চলে গেছে। আজকে ছিনতাইকারী ধরার খবরে থানায় এসেছি আমার ফোন উদ্ধার হয়েছে কি না দেখতে। কিন্তু এসে পাইনি।”
এ ঘটনায় রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি প্রশাসন) মীর আসাদুজ্জামান বলেন, “আমরা গতকাল রাত থেকে মোটরসাইকেলে করে ছিনতাই করা চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করছিলাম। আজকে ভোরে ছিনতাই চক্রের সদস্যরা ছিনতাই করছিল। আমরা তাদের ধাওয়া করলে তারা মোহাম্মদপুরের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে তাদের ধাওয়া করে মোহাম্মদপুর টাউন হল পর্যন্ত পৌঁছালে তারা পুলিশের ওপর আক্রমণ করে। ছিনতাইকারী চক্রের মোট ৫ জন ছিল। আমরা এ সময় ছিনতাইকারীদের লক্ষ্য করে ৪ রাউন্ড গুলি করলে এক ছিনতাইকারী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় তাদের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।”
তিনি আরও বলেন, ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা একই পরিবারের সদস্য। তাদের মধ্যে পলাশ ও সাকিব আপন দুই ভাই। এ ছাড়াও গ্রেফতার হওয়া আরেক শীর্ষ ছিনতাইকারী বিপ্লব তাদের আপন বোনজামাই।