হানাইল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল রেজাউল কাদিরের কু-কর্মের আমলনামা ফাঁস। জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার দক্ষিণ গোপালপুর গ্রামের ইলিয়াছ আহমেদের ছেলে ও জয়পুরহাট সদর উপজেলার বুম্বু ইউনিয়নের অন্তর্গত হানাইল নো’মানিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল রেজাউল কাদিরের বিরুদ্ধে অন্যের ভোগদখলীয় জমি স্বশরীরে সন্ত্রাসীবাহিনী দিয়ে জবরদখলের চেষ্টা,ওয়ারিশ বঞ্চিত করার অসদুদ্দেশ্যে অন্যের জমি রেকর্ড করে নেওয়ার কুপরামর্শ ,গাছ কাটে উল্টো মামলার পরামর্শদাতা হিসেবে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মামলাধীন জমিতে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বা নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা অবস্থায় আদালতের কোনো অনুমতি ছাড়া জোরপূর্বক গাছ কাটা একটি দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডে প্ররোচনা ও পরামর্শ দেওয়া আইনি দৃষ্টিতে সমান অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

মামলাধীন জমির গাছ কাটার আইনি পরিণতি:
১/ আদালত অবমাননা: দেওয়ানি আদালতে জমি নিয়ে মামলা চলাকালীন জমির প্রকৃতি বা আকৃতি পরিবর্তন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কোনো পক্ষ নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে গাছ কাটলে তা আদালত অবমাননার (Contempt of Court) শামিল।
২/ফৌজদারি অপরাধ ও ক্ষতিপূরণ: দণ্ডবিধি এবং নতুন ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ’ অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া বা আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গাছ কাটলে আইনগতভাবে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হলে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি ক্ষতিপূরণমূলক বনায়নের আদেশ দেওয়া হতে পার।
কুপরামর্শদাতার আইনি দায়বদ্ধতা:
যিনি গাছ কাটার পরামর্শ বা নির্দেশনা দিয়েছেন, তিনি অপরাধে প্ররোচনাদানকারী (Abettor) হিসেবে পরিগণিত হতে পারেন। দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি বেআইনি কাজে উৎসাহ, সহায়তা বা কুপরামর্শ দেন, তবে মূল অপরাধীর মতো তিনিও একই শাস্তির মুখোমুখি হবেন।
বেআইনি গাছ কেটে উল্টো বাদীর বিরুদ্ধেই মামলা:
চলমান দেওয়ানি ও ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের মামলাভুক্ত একটি জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও বিধিবিধান অমান্য করে অবৈধভাবে মূল্যবান গাছ কেটে ফেলার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই বেআইনি গাছ কাটার নেপথ্যে পরামর্শদাতা হিসেবে রেজাউল কাদির নামের এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে।আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো,গাছ কাটার প্রতিবাদ করায় উল্টো মূল জমির প্রকৃত দাবিদার ও মামলার বাদীকে আসামি করে তাঁর বিরুদ্ধেই হয়রানিমূলক পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিরোধ ও আইনি জটিলতা:
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকায় সংশ্লিষ্ট জমিতে একটি ল্যান্ড সার্ভে মামলা চলমান রয়েছে। আইন অনুযায়ী, দেওয়ানি আদালত বা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন কোনো সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা (status quo) বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা থাকে,এমতাবস্থায়, আদালতের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে বিরোধপূর্ণ জমির গাছ কেটে ফেলার ঘটনা ঘটে।
পরামর্শদাতা রেজাউল কাদিরের ভূমিকা:
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের প্রত্যক্ষ মদদে ও বিতর্কিত পরামর্শদাতা রেজাউল কাদিরের সরাসরি নির্দেশনায় এই গাছ কাটার ঘটনা সংঘটিত হয়। আইনি বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে এই গাছগুলো আত্মসাতের উদ্দেশ্যে কাটা হয়।
মামলার আইনজীবী:
মামলার আইনজীবী শ্রী: হৃদিকেষ বলেন,সাধারণত দেওয়ানি বা ল্যান্ড সার্ভে মামলার ক্ষেত্রে কোনো পক্ষই বিরোধীয় সম্পত্তির মূল অবস্থার কোনো পরিবর্তন (গাছ কাটা, মাটি কাটা বা স্থাপনা নির্মাণ) করতে পারে না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। জমি থেকে গাছ কাটার পর অপরাধীরা আইনকে নিজেদের অনুকূলে ব্যবহারের অসৎ উদ্দেশ্যে মূল মামলার বাদীর বিরুদ্ধেই ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক অভিযোগ এনে পাল্টা মামলা দায়ের করেছে। বিচারাধীন বিষয়বস্তুর ক্ষতিসাধন করে এবং ফৌজদারি আইনের ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির অপব্যবহার করে মামলা দায়ের করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
প্রাণনাশের হুমকি:
ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছ কাটার অভিযোগে আদালতে মামলা করায় বাদী মিজানুর রহমান কে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। হুমকি দিয়ে ক্ষান্ত না হয়ে প্রতিপক্ষ রেজাউল কাদির বাদীপক্ষের আরেকটি ভোগদখলীয় জমি জোরপূর্বক মাপজোক করে খুঁটি ও খাম্বা পুঁতে জবরদখলের চেষ্টা চালিয়েছেন। বাধা দিতে গেলে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের খুন-জখম ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়।এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার।
স্থানীয় সচেতন মহল:
যে কোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় এলাকায় পুলিশি টহল ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এবিষয়ে অভিযুক্ত ভাইস প্রিন্সিপাল এবং জমিতে অনধিকার প্রবেশ মামলায় ৮ জন আসামী মধ্যে ১ নং আসামী,গাছ কাটা ও উল্টো মামলা করার কুপরামর্শদাতা এবং অন্যের জমি রেকর্ড করে নেওয়ার কুট কৌশলী রেজাউল কাদিরের সাথে মুঠোফেনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন ,আমি কাউকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নয়, আমি অপরাধী হলে এর জন্য আইন আছে।
এই প্রতিবেদনের বিষয়ে যাবতীয় তথ্য উপাত্তের জন্য মামলার নথি-পত্র এবং সরেজমিন সহযোগিতা করেছেন গাছ কাটা মামলা ও জমিতে অনধিকার প্রবেশ মামলার বাদী জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার দক্ষিন গোপালপুর গ্রামের মৃত: তায়েজ উদ্দীনের ছেলে এবং জয়পুরহাট মুসলিমনগর মহিলা ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো: মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আমার গ্রাম পাঁচবিবি উপজেলা মৌজা দক্ষিণ গোপালপুর। বিবাদী (১) মোঃ মাজেদুল ইসলাম (৪৫) পিতা- মোঃ ইলিয়াছ আহমেদ (২) মোঃ মামুন (৪৫), পিতা- ইলিয়াছআহমেদ (৩) মাসুম (৩০), পিতা- ইলিয়াছ আহমেদ, (৪) মোঃ মাসুদ (৪০), পিতাঃ মোঃ ইলিয়াছ আহমেদ, (৫) মোঃ মোমিন (৪৮) পিতা মৃত- মোখলেছার রহমান (৬) মোঃ আঃ রহিম (৫০) পিতা- মৃত মোখলেছার রহমান (৭) মোঃ রায়হান পিতা- মৃত মোবারক আলী ও (৮) মোস্তাক(৪৫) পিতা মৃত মোখলেছার রহমান, সকলের সাং দক্ষিণ গোপালপুর, থানা- পাঁচবিবি, জেলা-জয়পুরহাট।জোরপূর্বক ভাবে বিগত দিনে ওয়ারিশগনের জমি প্রাপ্ত থেকে বঞ্চিত করার নিমিত্তে দলিল গোপন করিয়াছে। পরবর্তী সময়ে ঐ জমির মালিক ও ওয়ারিশগণের অনুপস্থিতিতে অসৎ উদ্দেশ্যে নিজ নামে রেকর্ড করিয়াছে। উক্ত জমির রেকর্ড বাতিলের জন্য বিজ্ঞ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ১৫৮/২০১৭ নং মামলা চলমান আছে। ঐ সূত্র ধরে গত ০৪/০৫/২০২৬ তারিখে জমির গাছ কর্তন করিয়াছে যার আনুমানিক মূল্য ৪০,০০০/- (চল্লিশ হাজার) টাকা মাত্র। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট ১১৭/পি/২০২৬। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন। মামলার আইও সাব্বির হোসেন এস আই পাঁচবিবি থানা। এমতাবস্থায় রেজাউল কাদিরের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে ও দলীয় যোগসাজসে উক্ত আসামীগণ জমি মাপজোক করিয়া খুঁটি খাম্বা দিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা করিতেছে। যাহার অনধিকার প্রবেশ মামলা নং-১৬৪/পি।
থানা-পাঁচবিবি, জেলা- জয়পুরহাট, মৌজা দাঃ গোপালপুর, জেল. এ.এল নং-১০৫ খতিয়ান নং- এস. এ ৭১, আর এস খং নং- ১৭৬ দাগ নম্বর রকম পরিমাণ এস এ হাল ৪২৪ ১৩২৯ ধানী ১২২৫ শ… ৪২৪ ১৩৩০ ধানী ০৭০০ শ… ৪২৪ ১৩৩৬ ধানী ২৪০০ শ .. ৪২৪ ১৩৩৭ ধানী ৭৩৭৫ শ..সর্বমোট- ১১৭০০ শ…।