বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেকমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশে কোন বেকার থাকবে না। প্রত্যককে যুবক-যুবতীদের হাতকে উন্নয়নের হাত হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রথমে বেকার যুবক-যুবতীকে প্রশিক্ষন দেয়া হবে। প্রশিক্ষনের পর তাদের চাকুরী না হওয়ার আগ পর্যন্ত বেকার ভাতা প্রদান করা হবে। বুধবার সন্ধ্যায় শহরের মাহমুদপুর মহল্লায় চায়ের আড্ডায় এক যুবকের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি স্থানীয়দের প্রশ্নের জবাবে বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। যার মাধ্যমে তারা সুদবিহীন টাকা পাবে সে টাকা দিয়ে বাড়ীতে ছোট ছোট হাঁস-মুরগীসহ অন্যান্য ছোট খামার গড়ে তুলতে পারবে। কৃষকদের ন্যায্যমুল্যে কৃষি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডও বিতরন করা হবে। এছাড়াও বাংলাদেশকে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত আইনের শাসন সম্বলিত উন্নত রাষ্ট্র গঠন করা হবে।
বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী হাসিনার অত্যাচার, নির্যাতন ও গুমের কথা উল্লেখ করে বলেন, যারা জুলুম করে তার বিচার আল্লাহ তায়ালা করেন। আর যারা ধৈর্য্যধারন করেন তার ফল আল্লাহ তায়ালাই দেন। যেমন অত্যাচারের ফলে হাসিনা রাজভবনের রান্না করা ভাত খেতে পারেনি। তাকে পালাতে হয়েছে। আর বেগম খালেদা জিয়াকে আল্লাহ তায়ালা কোটি কোটি মানুষের দোয়া ও ভালবাসাসহ তার কাছে নিয়ে গেছেন। আমরা দোয়া করি তিনি যেন বেহেস্তবাসী হোন।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। দেশ ঋণের বোঝায় ভরপুর। বর্তমানে একজন ছেলে-মেয়ে জন্মগ্রহন করলে ঋণের বোঝা নিয়ে জন্মগ্রহন করে। তারেক রহমানের নেতৃত্ব দেশকে ঋণ থেকে মুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, আমার জীবনে আর কোন চাওয়া-পাওয়া নেই। এখন যতটুকু সময় পাবো তা দেশবাসীর কল্যানে কাজ করব। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জের রাস্তাঘাট, কলকারখানাসহ মানুষ যেন নিরাপদে থাকতে পারে সে ব্যবস্থা গ্রহন করবো। আমার স্বপ্ন হলো- এমন দেশ গড়ব যেখানে একজন মেয়ে রাত তিনটায় একা একা রাস্তায় বের হয়ে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে।
তিনি জামায়াতে প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, একটি দল জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে। ধর্মের নামে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। মহিলাদের বাড়ী বাড়ী গিয়ে তামিলের নামে ধর্মের অপব্যবহার করে ভোট প্রার্থনা করছে। আপনারা প্রত্যেকে তাদের প্রতি সজাগ থাকবেন এবং মহিলাদের সজাগ থাকতে বলবেন। কারন নামাজ, রোযা, হজ্ব-যাকাতসহ ভাল কাজ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না। তাই তাদের ধোকাবাজির ফাঁদে কেউ পা দিবেন না।
চা আড্ডায় শহর বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা ভুইয়া, সাধারন সম্পাদক মুন্সী জাহিদ আলম, জেলা বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক হেদায়েতুল ইসলাম ফ্রট, সহ-সভাপতি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইবনে জায়েদ হাসু, সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাবুসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারন জনগন উপস্থিত ছিলেন।