পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে ও ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সচেতন করে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলার একটি করে নির্বাচিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে সাভারের জৈনাবাড়ীতে ‘জুট ফাইবার বিডি’র ব্যাগ উৎপাদন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরিফুল আলম।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের ৪৯৫টি উপজেলার একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নির্বাচন করা হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে গড়ে ২০০ জন শিক্ষার্থী ধরে প্রথম দফায় মোট ৯৯ হাজার শিক্ষার্থীকে এই পাটের ব্যাগ দেওয়া হবে। এই উদ্যোগ সফল হলে পরবর্তীতে সারা দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে পাটের স্কুল ব্যাগ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
এ প্রকল্পের আওতায় ব্যাগ উৎপাদনের জন্য ৫৪ জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে নির্বাচন করা হয়েছে। জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি)-এর মাধ্যমে উৎপাদিত এসব ব্যাগ সংগ্রহ করা হবে।
পাট শিল্পের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনা ও রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রয়োজনীয় পাট বীজ আমদানি করতে হয়। বীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। এর পাশাপাশি পাট চাষিদের প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা এবং উদ্যোক্তাদের নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হচ্ছে।
দেশের নদী ও খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পাট পচানো বা জাগ দেওয়ার পানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পানি সংকটের কারণে কৃষকরা সঠিক সময়ে পাট জাগ দিতে পারছেন না, যা পাটের গুণগত মানে প্রভাব ফেলছে। এ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে সারা দেশে খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।”
পাট চাষি ও দেশের পাট শিল্পকে সার্বিক সুরক্ষা দিতে সরকার সব মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে পরিদর্শকালে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।