এক শতাব্দী পর প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের দেখা মিলছে স্পেনের আকাশে। শতাব্দীর বিরল এই মহাজাগতিক রোমাঞ্চ প্রত্যক্ষ করতে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ পর্যটক, মহাকাশপ্রেমী এবং পেশাদার জোতির্বিজ্ঞানীরা এখন স্পেনে ভিড় জমিয়েছেন। দুই মিনিটের পূর্ণগ্রাস মুহূর্তটি প্রত্যক্ষ করতে আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি ও মেঘমুক্ত আকাশের খোঁজে সম্ভাব্য সেরা স্থানগুলোতে ঘুরছেন গ্রহণসন্ধানীরা।
স্পেন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পশ্চিমের আ করুনিয়া থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ মায়োর্কা পর্যন্ত প্রায় ২০০ কিলোমিটার বিস্তৃত মূল ভ্রমণপথে অন্তত ৬০ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে। স্পেনের বাইরে পর্তুগালের কিছু এলাকা, গ্রিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ডে এই পূর্ণগ্রাস দেখা গেলেও আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতির কারণে স্পেনকেই পর্যবেক্ষণের সবচেয়ে আদর্শ স্থান হিসেবে ধরা হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম এবং উত্তর ইতালিসহ সমগ্র পশ্চিম ইউরোপ জুড়ে আরও বহু মানুষ আংশিক গ্রহণ প্রত্যক্ষ করবেন।
আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মধ্যে কেবল গ্রহণ দেখার উদ্দেশ্যে সাড়ে চার লাখের বেশি মানুষ স্পেনে ভ্রমণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে জাপান পর্যন্ত বহু দেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরা মাসখানেক আগেই এখানকার হোটেলগুলো বুক করে রাখেন। বর্তমানে স্থানীয় ফার্মেসি ও চশমার দোকানগুলোতে গ্রহণ দেখার বিশেষ সুরক্ষা চশমার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামলাতে পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। এর পাশাপাশি বিমানসংস্থাগুলো ১০ হাজার মিটার ওপর থেকে দৃশ্য ধারণের ব্যবস্থা করেছে এবং বিখ্যাত জাদুঘরগুলোও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তাদের চিত্রকর্মের ওপর গ্রহণের আলোর প্রভাব প্রদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছে।
মাদ্রিদ প্ল্যানেটোরিয়ামের জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, প্রকৃতিতে এর চেয়ে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য খুব কমই রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা তাঁদের পূর্ব অভিজ্ঞতা ও আনন্দের অনুভূতি প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ দুই বছর আগে উত্তর আমেরিকায় সূর্যগ্রহণ দেখে এতটাই অভিভূত হয়েছিলেন যে পুনরায় সেই অভিজ্ঞতা নিতে এবার ইউরোপে ছুটে এসেছেন। অন্যদিকে, অনেক পর্যটক পরিবারসহ ছুটি কাটাতে এসে শেষ মুহূর্তে আকাশের মেঘ এড়াতে দেশটির গ্রামীণ এলাকার দিকে যাত্রা করার পরিকল্পনা করছেন। স্পেনে গ্রহণ মিস হলে আগামী বছর মিশরে পরবর্তী সূর্যগ্রহণ দেখতে যাওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে অনেকের।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান