সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় তামাই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. হাফিজুর রহমানের পৈতৃক সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় হযরত আলী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা।
জানা গেছে, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ভুক্তভোগীর ২৬ শতাংশ জমি দখল করে রেখেছিলেন স্থানীয় হযরত আলী। অন্যদিকে তামাই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন এলাকার বাইরে থাকায় বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করে। পরে কাগজপত্র যাচাই করে তিনি দেখতে পান জমিটি তার নিজের বড় চাচার সম্পত্তি।
এ ঘটনায় বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান জমি দখল নিতে গেলে হযরত আলী আদালতে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন, যাতে ওই জমিতে কেউ কোনো কার্যক্রম করতে না পারে। তবে আদালত সেই অভিযোগ নামঞ্জুর করে দেন।এরপর শুক্রবার (১ মে) বিএনপি নেতা মো. হাফিজুর রহমান তার জমি দখলে নিতে বেড়া নির্মাণ করেন। এ সময় হযরত আলী এসে বাধা প্রদান করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় মুরুব্বি কোরিয়া নান্নুর মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পর হযরত আলী ও তার সহযোগীরা বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমানের দেওয়া বেড়া, খুঁটি ও টিনের ওয়াল খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা বেলকুচি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, মো. হযরত আলী (৪০), মো. কাওছার (৩৫) এবং রেনুকা বেওয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এছাড়া বিবাদীদের মধ্যে দুজন ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে তার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে হযরত আলীর নেতৃত্বে অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমানের জমিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে নির্মিত সিমেন্টের খুঁটি ও টিনের বেড়া ভাঙচুর করে। বাধা দিলে তারা গালিগালাজসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে।
এরপর বাদ জুমআ বিএনপি নেতা মো. হাফিজুর রহমান নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে বিকাল ৩টার দিকে সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল দেখাতে গেলে হযরত আলীর অনুসারীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।
এ বিষয়ে বেলকুচি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর ইমাম বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সেই অভিযোগ আকারে আমরা ব্যবস্থা নেবো। মামলা হওয়া এতো সহজ বিষয় নয়।
তবে অভিযুক্ত হযরত আলী নিজেকে জামায়াত নেতা নন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আমি সাধারণ মানুষ, কোনো রাজনীতির সাথে যুক্ত নয়। ১৯৭৭ সালে আমাদের জমি রেকর্ড ভুক্তিতে আমাদের নাম না এসে, তাদের নাম আসে। মূলত এই জমি আমাদের। তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে, আমি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছি।