রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের নবনিযুক্ত উপাচার্য (ভাইস-চ্যান্সেলর) অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। গত ৮ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুল খালেকের নিকট তিনি যোগদানপত্র জমা দেন। পরদিন ৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বলেন, “রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চার উৎকর্ষের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশীদারিত্বমূলক প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা একটি আধুনিক, গবেষণাবান্ধব, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক এবং দক্ষতাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলব।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় সকলের মতামত ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
আগামী ১০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবনে অবস্থিত শহীদ মিনার এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করবেন।
উল্লেখ্য, ৮ জুন মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতারকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়।
পঁয়ত্রিশ বছরেরও বেশি সময়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার দেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে একজন সুপরিচিত শিক্ষাবিদ। তিনি এসএসসিতে ঢাকা বোর্ডে ষষ্ঠ এবং এইচএসসিতে দশম স্থান অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে বিএসএস (সম্মান)-এ প্রথম শ্রেণিতে প্রথম এবং এমএসএস-এ প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান লাভ করেন।
তিনি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিং বিষয়ে ফেলোশিপ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং সেখানে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্ক শিক্ষার প্রবর্তক হিসেবে তিনি পরিচিত। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্ক বিষয়ে বিশেষায়িত মাস্টার্স প্রোগ্রামের প্রতিষ্ঠাতাও তিনি।
অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার দেশি-বিদেশি বিভিন্ন স্বনামধন্য জার্নালে ৫০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। তাঁর গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র সামাজিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মানসিক স্বাস্থ্য, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তি এবং জলবায়ু সহনশীলতা।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (২০১৯-২০২১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি রোকেয়া হল, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছা হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক, সিনেট সদস্য ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছেন।
ছাত্রজীবনে তিনি ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, বাংলাদেশ কাউন্সিল ফর সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশনের মহাসচিব এবং ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইউট্যাব) প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর অধ্যাপক তাহ্মিনা আখতার বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রশাসনিক দক্ষতার মাধ্যমে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।