ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় দিনমজুর নুর নবী হোসেন (৩০)কে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকুও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি মো. শাহ পরান, যিনি ফয়সাল ও সাদ্দাম হোসেন নামেও পরিচিত। তার বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ নেওয়াজপুর গ্রামে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে ভাসমান অবস্থায় বসবাস করছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসহ সাতটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত নুর নবী হোসেনের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নে। নদীভাঙনের কারণে তার পরিবার ঢাকায় চলে গেলেও তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ফেনীতে ভাসমান জীবনযাপন করতেন। পরে দাগনভূঞার বাসিন্দা বিবি ফাতেমার সঙ্গে পরিচয়ের পর তাদের বিয়ে হয়। জীবিকার তাগিদে দুজনই বোতল কুড়িয়ে বিক্রি ও দিনমজুরের কাজ করতেন। রাতে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচেই তাদের আশ্রয় ছিল।
পুলিশ জানায় , গত শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে নুর নবী ও তার স্ত্রী ঘুমিয়ে থাকাকালে শাহ পরান বিবি ফাতেমাকে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় নুর নবীর ঘুম ভেঙে গেলে দুজনের মধ্যে কথা–কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে নুর নবী শাহ পরানের নাকে ঘুষি মারলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি সঙ্গে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে নুর নবীর পেটে পরপর দুটি ছুরিকাঘাত করেন।
গুরুতর আহত নুর নবীকে প্রথমে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পথে তার অবস্থার অবনতি হলে আবার ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। পরদিন রোববার সকালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিবি ফাতেমা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর অভিযান চালিয়ে রোববার দিবাগত রাত দুইটার দিকে দাগনভূঞা এলাকা থেকে শাহ পরানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহ পরান হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে একটি পরিত্যক্ত গর্ত থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকুটি উদ্ধার করা হয়।
ফেনী মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা সজল কান্তি দাশ বলেন, আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।