রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৪০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
বদলগাছীতে বিকাশ ব্যবসায়ী সাহিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ নাগেশ্বরীতে একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাতপরিচয়  যুবকের মরদেহ উদ্ধার হত্যার পর গোসল করে খেজুর ও ইয়াবা সেবন করে খুনিরা: পুলিশ যশোরে পৃথক অভিযানে ১৯ কেজি গাঁজাসহ আটক ৫ চাঁদা আদায়ে চীন ও পাকিস্তানসহ ৪ দূতাবাসে হুমকি : ডিবি নৌ ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী চাঁদা দাবিতে চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগ, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেফতার ২ উল্লাপাড়ায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে স্কুল শিক্ষক নিহত  সরকারি দামে সার বিক্রি না করলে ডিলারশিপ বাতিল: বিএফএ কুয়েতে ভিসা নিয়ে নতুন নিয়ম, আর মিলবে না বিশেষ সুবিধা
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

বদলগাছীতে বিকাশ ব্যবসায়ী সাহিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ

রাজশাহী প্রতিনিধি : / ২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
-বিকাশ ব্যবসায়ী সাহিদ হোসেন।

নওগাঁর বদলগাছীতে মোঃ সাহিদ হোসেন (২৬) নামে এক বিকাশ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, অর্থ আত্মসাৎ, মিথ্যা ঋণের দাবি তুলে মামলা করে হয়রানি এবং সুদের কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি পাওনা আদায়ে মামলা ও সামাজিক চাপকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন সাহিদ।

তেজাপাড়া গ্রামের আছমা বেগমের অভিযোগ, ২০২২ সালের ২১ আগস্ট বিকাশের পিন-সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে তিনি সাহিদের দোকানে যান। পরে সাহিদের কথায় মোবাইলে আসা একটি ওটিপি দেওয়ার পর তাঁর বিকাশ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ সাহিদের হাতে চলে যায়। এরপর অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হলে তা অন্য নম্বরে সরিয়ে নেওয়া হতো বলে দাবি করেন তিনি।

আছমার দাবি, একপর্যায়ে সাহিদ তাঁর মেয়ে মেঘলার কাছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পাওনা দাবি করেন। যদিও মেয়ের সঙ্গে সাহিদের কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল না বলে দাবি পরিবারের। পরে আছমা, তাঁর মেয়ে ও শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মজনুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে সিআর মামলা করেন সাহিদ। মামলাটি ২৮৬/২২ নম্বরের।

আছমার ভাষ্য, মামলায় তাঁদের ১৩ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। প্রায় তিন বছর পর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে আপস করতে হয়েছে। অন্যদিকে জিধিরপুর গ্রামের বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের মালিক মোঃ আরিফ উল করিম রাব্বি অভিযোগ করেন, সাহিদের সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেন ছিল। লেনদেন বন্ধ করার পর সাহিদের কাছে তাঁর পাওনা ছিল ৪৫ হাজার টাকা। কিন্তু সাহিদের কাছে তাঁর ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উল্লেখ করা একটি ব্যাংক চেক ছিল।

রাব্বি বলেন, আমি ভাবতে পারিনি, কোনো কারণ ছাড়া সুসম্পর্কের মধ্যে থেকেও সে ওই চেক ব্যবহার করে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় আমার বিরুদ্ধে মামলা করবে। মামলাটি ৪৩৫/২৫ নম্বরের। তবে ওই মামলায় আদালত থেকে তাঁর কাছে কোনো সমন আসেনি বলেও দাবি করেন তিনি। পরে হঠাৎ পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাহিদের বাবা একজন ভ্যানচালক এবং সাহিদ নিজে একসময় কাটমিস্ত্রির দোকানের কর্মচারী ছিলেন। বর্তমানে বিকাশ ব্যবসা ও চড়া সুদের কারবার করে তিনি প্রায় কোটিপতি হয়েছেন বলে দাবি করেন রাব্বি। তাঁর অভিযোগ, সাহিদের কর্মকাণ্ডে বদলগাছীর অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সাহিদের আয়ের প্রকৃত উৎস জানতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, বিকাশ ব্যবসার পাশাপাশি সাহিদ সুদের কারবারেও জড়িত। কম পরিমাণ অর্থ দিয়ে পরে বেশি টাকা দাবি করা এবং পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হলে মামলা করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ব্যাংকঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়া এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।
বদলগাছী থানার এক তদন্তকারী কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শাকিল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৪ লাখ টাকা পাওনার দাবি করে সাহিদ একটি সিআর মামলা করেন। তবে তদন্তে ৫৪ হাজার টাকা পাওনার সত্যতা পাওয়া যায় বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা। এরপর তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন দপ্তরে সাহিদ অভিযোগ করেছেন বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সাহিদ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সাহিদের আর্থিক লেনদেন, বিকাশ অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, ঋণসংক্রান্ত মধ্যস্থতা এবং দায়ের করা মামলাগুলোর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রাহকের ওটিপি নিয়ে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে, তা ব্যক্তিগত বিরোধের পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে বলে মনে করছেন তাঁরা।#

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর