বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ন
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

যে পাঁচ কারণে সিরাত পাঠ জরুরি

অনলাইন ডেস্ক: / ৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সিরাত। মানে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র জীবনাদর্শ। আমাদের সিরাত পাঠ করতে হয়। কেন সিরাত পাঠ করতেই হবে? সিরাত পাঠের অপরিহার্যতার পাঁচটি দিক

১. একজন সভ্য-ভদ্র ও সুন্দর মানুষ হতে হলে বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সজ্জিতকরণ অপরিহার্য। অন্যান্য গুণাবলি যতই উচ্চমানের হোক, যদি বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পরিপাটি না হয়, তবে সে মানুষ কখনই সভ্যজনদের মধ্যে গণ্য হতে পারে না। বাহ্যিক সৌন্দর্যের  জন্য চাই অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পরিচর্যা তথা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, চুল-দাড়ির কাট ও বিন্যাস, আতর ও সুগন্ধি ব্যবহার ইত্যাদি। সেই সঙ্গে মার্জিত পোশাক-আশাকও এর এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। কিন্তু রুচিবোধের পার্থক্য, স্থান-কাল ও পরিবেশ-পরিস্থিতির তারতম্য, আত্মমর্যাদাবোধের অভাব, হীনম্মন্যতা ও অনুকরণপ্রবণতা ইত্যাদি কারণে এ ক্ষেত্রে নানা রকমের ঢংঢাং পরিলক্ষিত হয়, যার অধিকাংশই ভদ্রজনোচিত নয়। আপনি যদি এ ক্ষেত্রে একজন সুন্দরতম মানুষ হিসেবে নিজেকে অলংকৃত করতে চান, তবে সব ভদ্রের সেরা ভদ্র সবচেয়ে মার্জিত জীবনসৌন্দর্যের অনন্য উপমা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনীগ্রন্থ পাঠ করুন। সেখানেই আপনি পাবেন সুন্দরতম অঙ্গসজ্জা ও শ্রেষ্ঠতম বেশবিন্যাস, যার অনুসরণ আপনাকে করে তুলবে সুদর্শন ও মার্জিত এবং বুদ্ধিদীপ্ত ও রাশভারী।

২. বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চেয়ে হৃদয়জগৎই মানুষের বেশি দামি, বরং এটাই তার প্রকৃত সারবত্তা। এটা বহু গুণের লালনক্ষেত্র, বিপুল সম্ভাবনার বিচিত্র ভুবন। এ ভুবনের চাষাবাদ, যথার্থ পরিচর্যা দ্বারা একজন মানুষ লোক থেকে লোকোত্তর পুরুষে পরিণত হতে পারে। আবার অবহেলা-অনাদরের ফলে এখানে এতটা আগাছা ও পাশববৃত্তির জন্ম নেয়, যা মানুষকে পরিণত করতে পারে হিংস্রতম হায়েনায়। কিন্তু আফসোস! আজকে এদিকটা নিদারুণভাবে উপেক্ষিত। মানুষের সর্বাত্মক চেষ্টা ব্যয় হচ্ছে বস্তুগত উন্নতির পেছনে।

আপনি আখেরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠ করুন। যেখানে পাবেন সত্যবাদিতা, সাহসিকতা, কোমলতা, দৃঢ়তা, বিশ্বস্ততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহানুভূতি-সহমর্মিতা, কল্যাণকামিতা, বদান্যতা, ধৈর্য-সহিষ্ণুতা, স্নেহ-মমতা, পরমতসহিষ্ণুতা, আত্মসচেতনতা অর্থাৎ উন্নত চরিত্রের সব উপাদান।

৩. মানুষ সমাজবদ্ধ প্রাণী। সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করা মানুষের পক্ষে অসম্ভব। এই সামাজিক জীবনে আচার-আচরণের শিষ্টতা অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মার্জিত আচরণ শত্রুকে বন্ধুতে পরিণত করে, পরকে আপন করে তোলে এবং সমাজে সৌহার্দ ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করে। পক্ষান্তরে অশিষ্ট আচরণ এর বিপরীত ফল আনয়ন করে, যা মানবসমাজের পক্ষে কিছুতেই কাম্য হতে পারে না। কিন্তু সমাজে কী সেই অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতিই বিরাজ করছে না? আমাদের শিষ্টতাবর্জিত আচরণ কী সে পরিস্থিতির জন্য বহুলাংশে দায়ী নয়? সুতরাং আমাদের সংশোধন দরকার। সর্বস্তরের মানুষের উচিত নিজের আচার-আচরণকে মার্জিত ও পরিশীলিত করে তোলা। আর নিঃসন্দেহে সে মার্জিত ব্যবহারের সবক পাওয়া যাবে সিরাত গ্রন্থে। মজলিসে কীভাবে বসতে হবে, আগন্তুককে কীভাবে বিদায় জানাতে হয়, আগন্তুককে কীভাবে সম্বোধন করতে হবে, অতিথিকে কীভাবে বিদায় জানাতে হয়, পথচারী আপনার কাছে কী ব্যবহার চায়, সাথি-সঙ্গী ও ছোটবড় ভেদে আচরণের কী তারতম্য হওয়া দরকার, ইশারা-ইঙ্গিতের প্রয়োগ কী রকম হওয়া চাই, প্রশ্ন ও উত্তরের ধরন কেমন হওয়া বাঞ্ছনীয় ইত্যাদি বিষয়ে সঠিক ধারণা লাভের জন্য আমাদের অবশ্যই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনীগ্রন্থ পাঠ করতে হবে।

৪. সবকিছুতে মধ্যম পন্থাই শ্রেষ্ঠ। প্রান্তিক কর্মপন্থা ও একদেশদর্শী মানসিকতা সবার কাছেই নিন্দনীয়। কাউকে ভালোবাসবেন, তো সে ভালোবাসার একটা মাত্রা থাকা চাই। আবার সংগত কোনো কারণে কারও সঙ্গে শত্রুতা সৃষ্টি হলে, সে শত্রুতাও যেন সীমা না হারায়। অর্থ উপার্জন করুন, কিন্তু  উন্মত্ত হয়ে নয়, আবার বিত্তে নিরাসক্তিও যেন বৈরাগ্যে পর্যবসিত না হয়। এমনিভাবে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পরিমিতি রক্ষা করা চাই। ব্যয়কুণ্ঠা যেমন দোষ, তেমনই অমিতব্যয়ও প্রশংসনীয় কিছু নয়। মধ্যমপন্থার অনন্য শিক্ষা পাওয়া যায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিরাতে।

৫. মানুষ হিসেবে আমাদের প্রত্যেকের ওপর নানাবিধ দায়দায়িত্ব অর্পিত আছে। পারিবারিক, নৈতিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় প্রভৃতি। এসব দায়দায়িত্বের প্রতি আমরা খুব কমই সচেতন। যে ব্যক্তি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনচরিত পাঠ করবে, সে নিঃসন্দেহে এই সত্য মরমে মরমে উপলব্ধি করবেন।  তাঁর গোটা জীবনই ছিল দায়িত্বসচেতনতার মূর্ত প্রতীক। সিরাতের পরতে পরতে রয়েছে দায়িত্বসচেতনতার অপূর্ব দীপ্তি।

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া গাফুরিয়াা, মাখযানুল উলুম, টঙ্গী, গাজীপুর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর