মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
গ্যাটউইক বিমানবন্দর সংলগ্ন কার পার্কিংয়ে আগুন, পুড়েছে ১৪০ গাড়ি সালাহর সঙ্গে আবার খেলতে পেরে উচ্ছ্বসিত ফাবিনহো চীনের বড় ব্যাংকগুলোকে নিশানার বাইরে রেখে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেফতার ৫০১, মামলা ৫৩ যে ধ্বনিতে শয়তান অস্বস্তিবোধ করে সলঙ্গায় ৪২৩ গ্রাম হেরোইনসহ দুই নারী মাদক সরবরাহকারী গ্রেফতার ষষ্ঠ থেকে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের উপবৃত্তি আবারও চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারী গ্রেফতার -৬ রাজশাহী নগরীতে জুয়া খেলা অবস্থায় ১০ জুয়াড়ি গ্রেফতার কয়লা থেকে তেল তৈরি করছে চীন, কীভাবে ৭ গুণ বাড়ল মূল্য?
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

যে ধ্বনিতে শয়তান অস্বস্তিবোধ করে

অনলাইন ডেস্ক: / ২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

অত্যন্ত বরকতপূর্ণ ও শক্তিশালী একটি শব্দ হলো ‘আল্লাহু আকবার’। ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে মুমিনের ঈমানি শক্তি বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভেরও একটি মাধ্যমে হলো তাঁর বড়ত্ব ও মহিমা ঘোষণা করা। পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ‘তাকবির’ তথা মহান আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণার নির্দেশ দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর বলো, সব প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি, রাজত্বে তাঁর কোনো শরিক নেই এবং অপমান থেকে বাঁচতে তাঁর কোনো অভিভাবকের দরকার নেই। সুতরাং তুমি পূর্ণরূপে তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করো।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১১১)

‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনির আরেকটি উপকারিতা হলো এটি শয়তানকে দুর্বল ও অসহায় করে দেয়। প্রতিদিন মুয়াজ্জিন যখন ‘আল্লাহু আকবার’ বলে আজান দিতে শুরু করে, তখন তা শয়তানের অন্তরেও জ্বালা ধরিয়ে দেয়।

হাদিসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, আজানের ধ্বনি শয়তানের জন্য এক অসহনীয় যন্ত্রণা।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ‌র রাসুল (সা.) বলেছেন, যখন নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন শয়তান হাওয়া ছেড়ে পলায়ন করে, যাতে সে আজানের শব্দ না শোনে। যখন আজান শেষ হয়ে যায়, তখন সে আবার ফিরে আসে। আবার যখন নামাজের জন্য ইকামত বলা হয়, তখন আবার দূরে সরে যায়।

ইকামত শেষ হলে সে আবার ফিরে এসে লোকের মনে কুমন্ত্রণা দেয় এবং বলে এটা স্মরণ করো, ওটা স্মরণ করো, বিস্মৃত বিষয়গুলো সে মনে করিয়ে দেয়। এভাবে লোকটি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে সে কয় রাকাত নামাজ আদায় করেছে তা মনে করতে পারে না। (বুখারি, হাদিস : ৬০৮)

এই হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, যখন মুয়াজ্জিন ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি আজান শুরু করে মানুষকে ইবাদতের আহবান করে, তখন শয়তানের অবস্থা অত্যন্ত লাঞ্ছনাকর হয়। ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি তাকে অসহায় করে তোলে। ফলে সে শুধু পালিয়েই যায় না, বরং এমন এক অবস্থায় পালায়, যা তার চরম লাঞ্ছনা ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে।

আল্লাহর মহিমা ঘোষণার ধ্বনি তার জন্য এতটাই অসহনীয় যে সে তা শোনা থেকেও নিজেকে বাঁচাতে চায়।

একইভাবে ইকামতের সময়ও যেহেতু আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা হয়, তখন শয়তান দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু যখন এই পবিত্র ধ্বনি থেমে যায়, তখন সে আবার মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেওয়ার সুযোগ খোঁজে।

তার কাজই হলো মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকা, তাদের আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে চেষ্টা করা। জাহান্নামের পথে পরিচালিত করা। এগুলো করতে সে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে, যা আল্লাহ নামের ধ্বনিতে দুর্বল হয়ে পড়ে। এটি যেন ঈমানের এমন এক শক্তি, যার সামনে শয়তানের সব ষড়যন্ত্র ভেঙে পড়ে।

আজান শুধু শয়তানকে দূরে সরায় না, বরং পরিবেশকে পবিত্র করে, মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে এবং গাফেল হৃদয়কে জাগিয়ে তোলে। তাই যে সমাজে নিয়মিত আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়, সেখানে শয়তানের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

‘আল্লাহু আকবার’ দুই শব্দের একটি বাক্য হলেও এটি মুমিনের জীবনে এক বিশাল শক্তির উৎস। তাকবির মানুষকে মনে করিয়ে দেয় সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে শক্তিশালী, সবচেয়ে মহিমান্বিত একমাত্র আল্লাহ। ফলে মানুষের অন্তরে জন্ম নেয় তাকওয়া, সাহস, প্রশান্তি ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতা। দূর হয়ে যায় ভয়, হতাশা। দুর্বল হয়ে পড়ে শয়তানের কুমন্ত্রণা, আর হৃদয় আল্লাহমুখী হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর