বুকজোড়া হাহাকার আর চোখের কোনায় জমা জমাট বাঁধা শূন্যতা। পাশে শুয়ে আছে ২১ বছরের তরুণ ছেলেটির নিথর দেহ। যে সন্তানকে ঘিরে ছিল এক দরিদ্র বাবার সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা, সেই সন্তানেরই অকাল প্রস্থান মেনে নিতে পারছেন না তিনি। বগুড়ার শেরপুরে নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে মায়ের ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে আব্দুল আলিম (২২) নামের এক তরুণ।
শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে শেরুয়াপাড়া নামাপাড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ। আলিম শেরুয়াদহপাড়া নামাপাড়া এলাকার আব্দুল আলেপের ছেলে এবং স্থানীয় রহিমা নওশের আলী ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিল।
নিহত আলিমের ফেসবুক পেজে নজর দিলে দেখা যায়, মর্মান্তিক এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও একটি বিরহের স্টোরি শেয়ার করেছিল সে। ধোঁয়াশাচ্ছন্ন সেই স্টোরি দেখে স্বজন ও বন্ধুদের ধারণা, হয়তো মনের গহীনে জমে থাকা ভালোবাসার টানাপোড়েন বা প্রেমঘটিত কোনো কষ্ট সইতে না পেরে এমন পথ বেছে নিয়েছে ছেলেটি।
পেশায় চাতাল শ্রমিক বাবা আব্দুল আলেপ কান্নাজড়ানো কণ্ঠে স্মৃতিচারণ করে বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ছেলেকে বাড়িতে রেখে স্ত্রীর সঙ্গে কাজের জন্য চাতালে যান তিনি। রাতভর হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে শুক্রবার সকাল ৯টায় ঘরে ফেরেন। কিন্তু দরজায় এসে বারবার ডাকলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি। একপর্যায়ে মনের ভেতর অজানা আশঙ্কায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকতেই স্তব্ধ হয়ে যান বাবা—ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল আলিমের দেহ, আর পাশে পড়ে ছিল তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি।
সন্তানহারা বাবা-মায়ের বুকফাটা আর্তচিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একটি চাতাল শ্রমিকের ঘরে হয়তো কত শত স্বপ্নের আলো দেখার কথা ছিল এই তরুণের হাত ধরে। কিন্তু সব আলো নিভিয়ে এক বিষাদময় নীরবতা রেখে চিরতরে চলে গেল আলিম। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি, তবে রেখে গেছে এক বাবার সারা জীবনের না-মেটা দীর্ঘশ্বাস