বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
জয়পুরহাটে মাদ্রাসাছাত্রীকে পিটিয়ে জখম,থানায় মামলা শ্রীলঙ্কায় শুরু হয়েছে সার্ক প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তাদের সভা সিরাজগঞ্জে দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত পাবনায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর আয়োজনে অর্থনৈতিক শুমারি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রায়গঞ্জে শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে গুডনেইবারসের প্রশিক্ষণ কর্মশালা সিংড়া উপজেলা পর্যায়ে স্টেক হোন্ডারদের সাথে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত কোস্ট গার্ডের অভিযানে টেকনাফে ৬ লাখ টাকার গাঁজা জব্দ জুনের ১৬ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠালেন ১৭২ কোটি ৯০ লাখ ডলার যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন: প্রধানমন্ত্রী সকল সেক্টরে নারীর অংশগ্রহণ আগের চেয়ে বেড়েছে : স্পিকার
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

জয়পুরহাটে সার সংকটে বিপাকে চাষিরা

জলিল রানা, জয়পুরহাট প্রতিনিধি : / ১১৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
-ফাইল ছবি।

উত্তরাঞ্চলের শস্যভান্ডার খ্যাত জয়পুরহাটে চলতি রোপা-আমন মৌসুম শেষ। রবি চাষাবাদ মৌসুম শুরুর আগেই আবারও দেখা দিয়েছে সার সংকট বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। চাষিরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী ডিলারের কাছে মিলছে না সার । আর ডিলারদের দাবি, তাদের কাছে বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত সার দেওয়ার কোন ধরনের সুযোগ নেই।

চাষিরা বলছেন, বিগত বছরে আলুর ফলন ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম আলু চাষ করেছিলেন চাষিরা। কিন্তু কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে এবার সেই স্বপ্নেও গুড়েবালি। এখন চাহিদামতো সার না পাওয়ার চিন্তার ।নেকটাই দিশেহারা চাষিরা।

জেলার সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের পেঁচুলিয়া গ্রামের চাষী জাহাঙ্গীর  ও মোমেজ অভিযোগ করে জানান, জমি প্রস্তুত করে স্যারের জন্য ডিলারের ঘরে গেলে তিনি কৃষি কার্ডে কৃষি কর্মকর্তার সুপারিশ নিয়ে আসতে বলেন। পরে সুপারিশ নিয়ে এলেও মেলেনি সার ।

জেলার আক্কেলপুর উপজেলার রোয়ার গ্রামের চাষী সোলায়মান আলী জানান, ‘এবার ৫ বিঘা জমিতে আলু ও সরিষা চাষ করেছি। কিন্তু চাহিদামতো টিএসপি ও ডিএপি (ড্যাপ) পাচ্ছি না। দোকানে গেলে বলে সরবরাহ নেই। অথচ নিজ চোখেই দেখি গোপনে অনেকেই বেশি নিয়ে যাচ্ছেন।’

সদর উপজেলার পুরনাপৈল ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের কৃষক তাজুল ও আরমান অনেকটাই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘সারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও নিরাশ হয়ে ফিরতে হয়। বাড়িতে আমার আলু বীজ অতিরিক্ত অঙ্কুরিত (টেক) হওয়ার ফলে লাগানোর অনুপযোগী হচ্ছে। কিছু আলু বীজে পচন ধরেছে। সার না পেলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে আমার ।’

এ বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রওনকুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘সরকার যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়, তা দিয়েই আমাদের চলতে হয়। কৃষকের চাহিদা বেড়ে গেলেও আমাদের হাতে তো অতিরিক্ত কোন সার থাকে না। এমনকি এলাকাভিত্তিক বরাদ্দকৃত এক ওয়ার্ডের সার অন্য ওয়ার্ডের কৃষককে দিতেও পারি না। কৃষকের জমির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে বরাদ্দকৃত  সার বিতরণ করছি।’

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম মন্তব্য করেন, অনেক কৃষক নির্ধারিত জমির তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ সার চাইছেন, যা বাস্তবসম্মত নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত সার প্রয়োগে সাময়িকভাবে ফসল উৎপাদন ভালো হলেও কয়েক বছর পর ওই জমিগুলো পূর্ণমাত্রায় তার উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলবে। কিছু কৃষক না বুঝেই জমিতে অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করছেন। তবে এ বিষয়ে আমরা কৃষকদের মাঝে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালাচ্ছি।’

স্থানীয় কৃষি গবেষক নুরুজ্জামান জানান, ‘সারের চাহিদা, সরবরাহ ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় এই সংকট তৈরি হচ্ছে। এর স্থায়ী সমাধানে ডিজিটাল বিতরণ ব্যবস্থা ও কঠোর মনিটরিং জরুরি বলে আমি মনে ।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর