রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
ক্ষমতায় গেলে ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা হবে- ডা. শফিকুর রহমান শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন লক্ষ্মীপুরে আশরাফুল ইসলাম হত্যা মামলার তিন আসামি গ্রেফতার চাঁদাবাজদের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাইরে থাকতে হবে- ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রামে পুলিশের প্রাক-নির্বাচনি সভা: নির্বাচনকালে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ আইজিপির চাঁদাবাজি-আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড : ডিবি সাধারণ মানুষের সরব উপস্থিতিই বিএনপির শক্তির প্রমাণ: আমিনুল হক দ্রুত পোস্টাল ব্যালট ফেরত পাঠানোর তাগিদ ইসির খেজুর গাছের সংকট: নতুন প্রজন্ম পাচ্ছে না পিঠার প্রকৃত স্বাদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন জামায়াত আমির
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

জয়পুরহাটে সার সংকটে বিপাকে চাষিরা

জলিল রানা, জয়পুরহাট প্রতিনিধি : / ৫০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
-ফাইল ছবি।

উত্তরাঞ্চলের শস্যভান্ডার খ্যাত জয়পুরহাটে চলতি রোপা-আমন মৌসুম শেষ। রবি চাষাবাদ মৌসুম শুরুর আগেই আবারও দেখা দিয়েছে সার সংকট বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। চাষিরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী ডিলারের কাছে মিলছে না সার । আর ডিলারদের দাবি, তাদের কাছে বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত সার দেওয়ার কোন ধরনের সুযোগ নেই।

চাষিরা বলছেন, বিগত বছরে আলুর ফলন ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগাম আলু চাষ করেছিলেন চাষিরা। কিন্তু কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে এবার সেই স্বপ্নেও গুড়েবালি। এখন চাহিদামতো সার না পাওয়ার চিন্তার ।নেকটাই দিশেহারা চাষিরা।

জেলার সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের পেঁচুলিয়া গ্রামের চাষী জাহাঙ্গীর  ও মোমেজ অভিযোগ করে জানান, জমি প্রস্তুত করে স্যারের জন্য ডিলারের ঘরে গেলে তিনি কৃষি কার্ডে কৃষি কর্মকর্তার সুপারিশ নিয়ে আসতে বলেন। পরে সুপারিশ নিয়ে এলেও মেলেনি সার ।

জেলার আক্কেলপুর উপজেলার রোয়ার গ্রামের চাষী সোলায়মান আলী জানান, ‘এবার ৫ বিঘা জমিতে আলু ও সরিষা চাষ করেছি। কিন্তু চাহিদামতো টিএসপি ও ডিএপি (ড্যাপ) পাচ্ছি না। দোকানে গেলে বলে সরবরাহ নেই। অথচ নিজ চোখেই দেখি গোপনে অনেকেই বেশি নিয়ে যাচ্ছেন।’

সদর উপজেলার পুরনাপৈল ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের কৃষক তাজুল ও আরমান অনেকটাই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘সারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও নিরাশ হয়ে ফিরতে হয়। বাড়িতে আমার আলু বীজ অতিরিক্ত অঙ্কুরিত (টেক) হওয়ার ফলে লাগানোর অনুপযোগী হচ্ছে। কিছু আলু বীজে পচন ধরেছে। সার না পেলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে আমার ।’

এ বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রওনকুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘সরকার যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়, তা দিয়েই আমাদের চলতে হয়। কৃষকের চাহিদা বেড়ে গেলেও আমাদের হাতে তো অতিরিক্ত কোন সার থাকে না। এমনকি এলাকাভিত্তিক বরাদ্দকৃত এক ওয়ার্ডের সার অন্য ওয়ার্ডের কৃষককে দিতেও পারি না। কৃষকের জমির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে বরাদ্দকৃত  সার বিতরণ করছি।’

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম মন্তব্য করেন, অনেক কৃষক নির্ধারিত জমির তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ সার চাইছেন, যা বাস্তবসম্মত নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘অতিরিক্ত সার প্রয়োগে সাময়িকভাবে ফসল উৎপাদন ভালো হলেও কয়েক বছর পর ওই জমিগুলো পূর্ণমাত্রায় তার উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলবে। কিছু কৃষক না বুঝেই জমিতে অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করছেন। তবে এ বিষয়ে আমরা কৃষকদের মাঝে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালাচ্ছি।’

স্থানীয় কৃষি গবেষক নুরুজ্জামান জানান, ‘সারের চাহিদা, সরবরাহ ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় এই সংকট তৈরি হচ্ছে। এর স্থায়ী সমাধানে ডিজিটাল বিতরণ ব্যবস্থা ও কঠোর মনিটরিং জরুরি বলে আমি মনে ।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর