আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’-এর আওতায় আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আনসার–ভিডিপি সদর দপ্তর থেকে অনলাইনে ৯০ দিন মেয়াদি এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। প্রশিক্ষণ আজ থেকে শুরু হয়ে আগামী ২১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।
এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ১৫ জানুয়ারি আনসার–ভিডিপি সদর দপ্তরে দক্ষতা উন্নয়ন ও পরামর্শমূলক প্রতিষ্ঠান Skill Up-এর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করা হয়। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আনসার–ভিডিপি একাডেমি, খুলনা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রংপুর—এই পাঁচটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রতিটিতে ৪০ জন করে মোট ২০০ জন সদস্য অংশগ্রহণ করছেন। Skill Up-এর অভিজ্ঞ জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, এই জাপানিজ ভাষা প্রশিক্ষণ হবে একটি হাইব্রিড ও ব্যতিক্রমধর্মী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, যা আনসার–ভিডিপির প্রচলিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থেকে ভিন্ন। এটি হবে নিবিড়, আবাসিক ও ব্যবহারিক ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম।
তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদেরকে ক্লাস সময়ের বাইরেও নিয়মিত জাপানিজ ভাষায় কথোপকথনের অনুশীলন করতে হবে।
পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সরবরাহকৃত অডিও–ভিজুয়াল উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মহাপরিচালক বলেন, আনসার–ভিডিপির প্রায় ৬০ লাখ সদস্য এবং তাদের পরিবারভুক্ত প্রায় ৩ কোটি মানুষের জন্য ধাপে ধাপে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা বাহিনীর কৌশলগত লক্ষ্য। তিনি জানান, প্রশিক্ষণ শেষে জাপানিজ ভাষার উচ্চতর সার্টিফিকেশন অর্জনের ক্ষেত্রে আনসার–ভিডিপি কল্যাণ ট্রাস্ট পরীক্ষার ফি প্রদানে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়নে রাষ্ট্র যে দায়িত্ব বাহিনীকে দিয়েছে, তা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। শুধু সার্টিফিকেট অর্জন নয়, প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীরা যেন জাপানিজ ভাষায় স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে ও বুঝতে সক্ষম হয়—এটাই এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ধারণ করবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে আনসার–ভিডিপি সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও জোরদার হবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং সদস্য ও তাদের পরিবারের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।