শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
বগুড়া ও সিলেটে সড়কে ঝরল ১৫ প্রাণ নোয়াখালীতে সিএনজিতে ১১ কেজি গাঁজা, গ্রেফতার ১ বনানীতে স্বর্ণ কিনতে গিয়ে ৫৭ লাখ টাকার জাল নোটসহ যুবক গ্রেফতার রাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে অপহরণ-হত্যাচেষ্টার মামলা: ১৭ দিনেও গ্রেফতার নন অভিযুক্ত গাজীপুরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে, থানায় মামলা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণ দিবস পালিত কামারখন্দে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে সাতটি গরু চুরি শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার, নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নে গণবিজ্ঞপ্তি ‘বাংলাদেশ হারিয়ে যাচ্ছিল, এখন আবার ফিরে আসছে’ বোরকা পরা নারীর ইশারায় বাসে হানা দেয় ডাকাতেরা, ১৫-২০ মিনিটে ৫৭ লাখ টাকা লুট
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

ইফতার করানো কেন এত মর্যাদাপূর্ণ?

অনলাইন ডেস্ক: / ১১৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
-প্রতীকী ছবি।

রমজান রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসে নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তাই শুধু নিজের ইবাদতে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যের ইবাদতে সহযোগিতা করাও রমজানের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রোজাদারকে ইফতার করানো এমনই এক আমল, যা অল্প সামর্থ্যেও অসীম সওয়াবের দুয়ার খুলে দেয়।

মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করো।’ — কোরআনুল কারিম (সুরা মায়িদা, আয়াত ২)

রোজাদারকে ইফতার করানো এই সহযোগিতারই বাস্তব উদাহরণ। একজন মুমিন সারা দিন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করেন। তার সেই ইবাদত পূর্ণ করতে সামান্য খাবার দিয়ে সহায়তা করা মানে তার আমলের অংশীদার হওয়া।

মুহাম্মদ (সা.) ইফতার করানোর বিশেষ ফজিলত বর্ণনা করে বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে; অথচ রোজাদারের সওয়াব থেকে কোনো অংশ কমানো হবে না।’ — জামি আত-তিরমিজি (হাদিস ৮০৭), সুনান ইবনে মাজাহ (হাদিস ১৭৪৬)

এই হাদিসে একটি বড় সুসংবাদ রয়েছে। একটি খেজুর, এক গ্লাস পানি কিংবা সামান্য খাবার দিয়েও একজন মুমিন রোজার সমপরিমাণ সওয়াব পেতে পারেন। অর্থাৎ ইফতার করানো শুধু দান নয়, এটি আল্লাহর নিকট প্রিয় একটি ইবাদত।

পবিত্র কোরআনে নেককারদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দিকে আহার করায়।’ — কোরআনুল কারিম (সুরা আল-ইনসান, আয়াত ৮)

রমজানে দরিদ্র ও অভাবী রোজাদারদের ইফতার করানো এই আয়াতের বাস্তব প্রয়োগ। এতে একদিকে ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্ট লাঘব হয়, অন্যদিকে দাতার অন্তরে তাকওয়া ও মানবিকতা বৃদ্ধি পায়।

ইফতার আয়োজন সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের পরিবেশ সৃষ্টি করে। মসজিদ, মহল্লা কিংবা পরিবারে একসঙ্গে ইফতার করা পারস্পরিক ভালোবাসা বাড়ায়, ধনী-গরিবের ব্যবধান কমায় এবং ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের সৌন্দর্য প্রকাশ করে।

তবে ইফতার যেন প্রদর্শন, অপচয় বা প্রতিযোগিতার মাধ্যম না হয়। আল্লাহ তাআলা সতর্ক করে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ — কোরআনুল কারিম (সুরা ইসরা, আয়াত ২৭)

অতএব, আড়ম্বর নয়—আন্তরিকতা ও ইখলাসই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। অল্প হলেও আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে ইফতার করানোই প্রকৃত সওয়াবের কারণ।

রমজান আমাদের শেখায়, নিজের জন্য ইবাদত করার পাশাপাশি অন্যের ইবাদতে সহযোগিতা করাও বড় নেক আমল। একটি খেজুর কিংবা এক গ্লাস পানি দিয়েও আমরা অফুরন্ত সওয়াবের অধিকারী হতে পারি। তাই আসুন, এ বরকতময় মাসে রোজাদারদের ইফতার করানোর অভ্যাস গড়ে তুলি এবং দান, সহমর্মিতা ও তাকওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর