চলনবিলে হঠাৎ হাঁসের ডিমের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়া উপজেলার শতাধিক হাঁস খামারি। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে ডিমের দাম অর্ধেকেরও বেশি কমে যাওয়ায় খামার টিকিয়ে রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে পাইকারি বাজারে প্রতি পিস হাঁসের ডিম ১৫ থেকে ১৭ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯ থেকে ১১ টাকায়। অথচ ফিডসহ সব ধরনের হাঁসের খাবারের দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি রয়ে গেছে।
উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের কুমগ্রামের হাঁস খামারি আয়ুব আলী জানান, চলনবিল-সংলগ্ন সিংড়া বারুহাস ডুবো ব্রিজ এলাকায় তার খামার রয়েছে। খামারে মোট ১ হাজার ২০০টি হাঁসের মধ্যে প্রায় ৭০০টি হাঁস নিয়মিত ডিম দেয়। কিন্তু মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে ডিমের দাম অর্ধেকে নেমে আসায় বড় সংকটে পড়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ৭০০টি ডিম বিক্রি করে যে টাকা পাই, সেই টাকায় এখন খামারের ১ হাজার ২০০ হাঁসের খাবারই কেনা যাচ্ছে না।
একই উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের আয়েশ গ্রামের খামারি বাচ্চু মিয়া জানান, প্রায় ২৭ বছর ধরে হাঁস পালন করলেও এ বছরই প্রথম এত বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন। তিনি বলেন, “ফিডসহ সব খাবারের দাম বেড়েছে। অথচ ডিমের ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। এভাবে চললে খামার ধরে রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে।
ইন্দ্রাসন গ্রামের খামারি আলাউদ্দিন বলেন, তার খামারে প্রায় ৭০০টি হাঁস রয়েছে। খাবার জোগান দিতে না পেরে দূরের হালতির বিল থেকে ছোট শামুক সংগ্রহ করে কোনো রকমে হাঁসগুলোকে খাওয়াতে হচ্ছে। তিনি জানান, আগে ৭০০ হাঁসের মধ্যে প্রায় ৪০০ হাঁস ডিম দিতো, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩০০-তে।
সরেজমিনে চলনবিল অঞ্চলের সবচেয়ে বড় হাঁসের ডিমের বাজার হিসেবে পরিচিত সিংড়া হাট ঘুরে দেখা যায়, হাঁসের বাচ্চা ফোটানোর জন্য ব্যবহৃত হ্যাচারির বড় ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১১ টাকা পিসে এবং ছোট ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে সাড়ে ৯ টাকা পিসে।
বগুড়া থেকে ডিম কিনতে আসা পাইকার এনতাজ মন্ডল বলেন, এখন পোল্ট্রি ডিমের আমদানি অনেক বেশি। দামও কম। সে কারণেই হাঁসের ডিমের চাহিদা কমে গেছে। আগের মতো ডিম কিনে বাজারে বিক্রি করতে পারছি না।
চলনবিল এলাকার ডিম আড়তদার মো. আলহাজ উদ্দিন জানান, প্রতিবছরই পোল্ট্রি মুরগির ডিমের আমদানি স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ফলে সব ধরনের ডিমের বাজার কিছুটা নিম্নমুখী হয়। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই বাজার বেশি দিন থাকবে না। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যেই ডিমের দাম আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।
এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা তাশরিফুল ইসলাম বলেন, পোল্ট্রি ডিমের উৎপাদন ও বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে হাঁসের ডিমের দাম কমে গেছে। এটি মূলত বাজারভিত্তিক একটি পরিস্থিতি। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই ডিমের বাজার স্বাভাবিক হবে।