শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ন
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

জয়পুরহাটে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ির মেলা

জলিল রানা, জয়পুরহাট প্রতিনিধি : / ৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

জয়পুরহাটে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ির মেলা।  জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার তুলশীগঙ্গা নদীর তীরে সন্যাসতলা মন্দিরের পাশে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘুঘুড়ির মেলা। গ্রামীণ এ মেলাটি সন্যাসতলীর ঘুড়ির মেলা হিসেবে পরিচিত।

মেলার সঠিক ইতিহাস কেউ বলতে না পারলেও জনশ্রুতি আছে, সন্ন্যাসী পূজাকে ঘিরে ২০০ বছরের বেশি সময় আগে মেলাটির শুরু। সেই থেকে চলছে,এ বছরও মধু মাস জ্যৈষ্ঠের শেষে শুক্রবার (১২ জু-২০২৬) মেলাটি শুরু হয়েছে। চলবে শনিবার পর্যন্ত।

ঐতিহ্যবাহী এ মেলাকে কেন্দ্র করে পুরো মেলাস্থল সব ধর্ম ও বর্ণের  মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। যতই মেলার সময় এগিয়ে আসে ততই যেন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে এ উপজেলা। হাজারো মানুষের পদচারনা আর আনন্দের ফোয়ারা বয়ে যায় মেলাপ্রাঙ্গণে।

মেলাকে ঘিরে প্রতি বছর এলাকার অর্ধশত গ্রামে বাড়ি বাড়ি জামাই-মেয়ে সহ আত্মীয়-স্বজনদের আগমন ঘটে। একদিন আগে থেকেই বিশাল এ মেলাকে কেন্দ্র করে দোকানিরা সাজিয়ে বসে তাদের পসরা। এবারও ৪ কি:মি: এলাকাজুড়ে বসেছে হরেক রকম ঘুড়ি, বিভিন্ন মৌসুমি ফলমূল, মিষ্টির পসরা। আর প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ছিল অল্প মূল্যের বাঁশের তৈরি রঙিন ডালাকুলা, চাঙ্গারি, হাতপাখা ও মাছ শিকারের খৈলশানি সহ দেশীয় বিভিন্ন যন্ত্র ছাড়াও সাংসারিক কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন তৈজসপত্র। নানা বয়সী হাজারো নারী-পুরুষের আনন্দমুখর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো মেলাপ্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক আনন্দ মোহনায়।

ক্ষেতলাল উপজেলা সদর থেকে ৮ কি:মি: দক্ষিণে মামুদপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর-জিয়াপুর গ্রামের তুলসীগঙ্গা নদীর কোলঘেঁষে বসে এই সন্ন্যাসতলীর মেলা। মেলার দ্বিতীয় তথা শেষ দিন শনিবার মেয়েদের কেনাকাটার জন্য উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শনিবার সকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মেয়েরা মেলায় এসে সন্ন্যাস-ঠাকুরের পূজা-অর্চনা করেন। আর আশপাশে সুবিশাল এলাকাজুড়ে শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধদের চলে ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসব।

কোনো পুরস্কারের আয়োজন না থাকলেও সবাই মনের আনন্দে অংশ নেয় ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসবে। কে কত উঁচুতে ঘুড়ি ওড়াতে পারে- সে প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। এ মেলাকে কেন্দ্র করে নানা বয়সের মানুষ মেতে ওঠে হরেক রকম ঘুড়ি ওড়ানোর উৎসবে। কার ঘুড়ি কত উঁচুতে ওড়ে আর কে কার ঘুড়ির সুতা কেটে দিতে পারে, দিনভর চলে সে প্রতিযোগিতা। জামাই-মেয়ের পাশাপাশি স্বজনদের আপ্যায়নের রীতি এলাকায় চলে আসছে এ মেলাকে ঘিরেই।

স্থানীয় জিয়াপুর গ্রামের মহসিন আলী ও আয়ালগাড়ী গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমাদের বাপ-দাদারা এই মেলা করতেন, আমরাও এই মেলায় কেনাকাটা করতে আসি। সন্ন্যাসীর মেলাকে ঘিরে আশপাশের জেলা থেকে অনেক মানুষের সমাগম ঘটে।

মেলায় আসা বগুড়ার শিবগঞ্জ  উপজলার নাসির হোসেন ও দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার আরমান হোসেন বলেন, প্রতিবছর এই সন্ন্যাসতলী মেলায় আমরা আসি শুধু ঘুড়ি কিনতে। তবে ঘুড়ি ছাড়াও এখানে সব ধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায়।

সন্ন্যাসতলী মেলা কমিটির সভাপতি মন্টু চন্দ্র বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও বসেছে সন্ন্যাসতলী মেলা। এই মেলার বয়স ২০০ বছর। এটি আমরা হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে পরিচালনা করে থাকি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এই মেলায় আসেন।

সন্যাসতলী মেলা কমিটির রফিকুল ইসলাম বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই সন্ন্যাসতলী মেলার মূল আকর্ষণ ঘুড়ি। আশপাশের জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ মানুষের সমাগম ঘটে এখানে। এটি আদতে হয়ে উঠেছে সব ধর্মের, সব জাতের মানুষের মিলনমেলা।

জয়পুরহাটে ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ির মেলাকে ঘিরে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের ভ্রাতৃত্বের এই মেল বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে এমনটাই প্রত্যাশা অত্রএলাকার সচেতন মহলের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর