মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ইরানের হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার খবরে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে,এমন আশঙ্কায় রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে ভিড় করছেন যানবাহনের মালিকরা।
শুক্রবার সকাল থেকে নগরীর সবগুলি পাম্পে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকে।
নগরীর মতিহার থানার অক্ট্রয় মোড় এলাকায় অবস্থিত নয়ন পেট্রোল পাম্পসহ একাধিক পাম্পে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে দেখা যায় মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, ট্রাক, বাস ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের।
মাইক্রোবাস নিয়ে পেট্রোল নিতে আসা ক্রেতা মোঃ সাদ্দাম ও মোঃ পিয়াস আলী বলেন, প্রতিদিন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দেখছি। যে হারে যুদ্ধের বিস্তার হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। তাই গাড়িতে ৬০ লিটার পেট্রোল মজুত রেখেছেন তিনি ।
মোটরসাইকেল নিয়ে তেল নিতে আসা সাপ্তাহিক বাংলার বিবেক পত্রিকার সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা জামান বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে এবং সেখানে হাজার হাজার ট্যাংকার আটকা পড়েছে বলে সংবাদ প্রচার হচ্ছে। তাঁর মতে, যুদ্ধ দ্রুত থামার সম্ভাবনা কম, তাই তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, এমন আশঙ্কায় তিনি ট্যাংকি পূর্ণ করে তেল নিয়েছেন।
নয়ন পেট্রোল পাম্পের মালিক মোঃ আব্দুল হাই বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার খবর প্রচার হওয়ায় অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে রাখছেন।
তিনি বলেন, সাধারণ দিনের তুলনায় আজ সকাল থেকেই পাম্পে ভিড় অনেক বেশি। অনেকেই একসঙ্গে বেশি পরিমাণ তেল নিচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় সেখানে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিভিন্ন পাম্প মালিকরা।
এদিকে নগরীর বিভিন্ন পাম্পে হঠাৎ বাড়তি চাপ তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত তেল সরবরাহে কোনো ঘাটতি হয়নি বলে জানিয়েছেন পাম্প মালিকরা। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এর প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।