ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় যানজট ও ভোগান্তি কমাতে সাভার ও আশুলিয়ার পোশাক কারখানাগুলোতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও কারখানা মালিকদের সমন্বয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার থেকে ঈদ উপলক্ষে সাত দিনের সরকারি ছুটি শুরু হচ্ছে। এর আগে সোমবার বিকেল থেকেই অনেক পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করছে। পর্যায়ক্রমে এ ছুটি আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে।
বিভিন্ন কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ায় পোশাক শ্রমিকরা টানা কয়েক দিন ধরে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হতে পারবেন। এতে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষের যাত্রা না হওয়ায় যানজট ও ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
এদিকে অনেক শ্রমিক ইতোমধ্যে তাদের পরিবার-পরিজনকে গ্রামের বাড়িতে পাঠাতে শুরু করেছেন। তবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল এলাকার পুলিশ সুপার মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, সোমবার বিকাল থেকেই বেশ কিছু পোশাক কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে। সন্ধ্যার পর থেকেই ছুটি পাওয়া অনেক পোশাক শ্রমিক ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। শ্রমিকরা যেন যানজটের কবলে না পড়েন, সেজন্য সব কারখানায় একযোগে ছুটি না দিয়ে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে যানজট নিরসনে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ। তিনি জানান, মহাসড়কে পেট্রোল টিম ও মোবাইল টিমের পাশাপাশি সাদা পোশাকে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বিকল যানবাহন দ্রুত সরাতে নয়টি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ঈদে যানজটপ্রবণ হিসেবে পরিচিত নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক এলাকাতেও বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক জেলা পুলিশ ট্রাফিক ডিউটিতে দায়িত্ব পালন করছেন।