বগুড়ার শেরপুরে একটি ফসলি জমি থেকে প্রায় ৬ ফুট লম্বা অত্যন্ত বিষধর একটি পদ্ম গোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সাপটিকে পিটিয়ে মারার হাত থেকে রক্ষা করে নিরাপদ ও নির্জন এলাকায় অবমুক্ত করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থা’। সোমবার (২৫ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের খিকন্দা পূর্বপাড়া গ্রামে এই সাপটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে খিকন্দা (সিকিন্দা) পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত গিয়াস মন্ডলের ছেলে মজিবর রহমান মাছ ধরার জন্য নিজের ফসলি জমিতে একটি চায়না দুয়ারী জাল পেতে রাখেন। রাত আনুমানিক তিনটার দিকে তিনি জালে আটকানো মাছ সংগ্রহ করতে গেলে বিশাল আকৃতির এই পদ্ম গোখরা সাপটি দেখতে পান। পরে তিনি সাপসহ জালটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং সাপটিকে মেরে ফেলার প্রস্তুতি নেন। সাপটি দেখে প্রথমে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। পরে জালের মালিক মজনু মিয়া সাপটিকে না মেরে শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ জামাল কামালকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে শাহ জামাল কামাল তাৎক্ষণিকভাবে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থা’র সভাপতি সোহাগ রায় সাগরকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরই প্রেক্ষিতে ‘স্নেক রেসকিউ টিম বাংলাদেশ’এর উদ্ধারকর্মী মোহাম্মদ জেমস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অক্ষত অবস্থায় বিষধর সাপটি উদ্ধার করেন এবং পরে লোকালয় থেকে দূরে একটি নির্জন ও নিরাপদ জঙ্গল এলাকায় অবমুক্ত করেন।
সাপটি উদ্ধারের সময় অন্যান্যের মধ্যে শেরপুর প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন।
পদ্ম গোখরা অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির সাপ। সাধারণত এরা মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য কিংবা নিজের জীবন রক্ষার্থে ছোবল দিয়ে থাকে। অহেতুক এরা মানুষকে আক্রমণ করে না। উদ্ধারকর্মী মোহাম্মদ জেমস বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই আমরা সাপটি উদ্ধার করতে ছুটে আসি। এই সাপগুলো পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিটি প্রাণীর ভূমিকা অপরিসীম। আমরা সাপটি উদ্ধার করে সম্পূর্ণ নিরাপদ একটি জঙ্গলে ছেড়ে দিয়েছি, যেন সেটি প্রকৃতির বুকেই বেঁচে থাকতে পারে।