ভয়ংকর প্রতারক বিটিএল গ্রুপের সিইও মির্জা আবুল বাশার। দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সুকৌশলে প্রতারণার জাল বুনেছিলেন তিনি। চাকরির প্রলোভন, আসামি মুক্ত করার আশ্বাস, গাড়ি কেনা-বেচা ও ব্যবসায় বিনিয়োগ–প্রায় সব ক্ষেত্রেই ছিল তার প্রতারণার বিস্তৃত জাল।
গুলশান-১ এলাকায় টানা ১৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর শনিবার তাকে গ্রেফতার করেছে গুলশান থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামি ঢাকাই সিনেমার নায়িকা ইয়ামিন হক ববির স্বামী।
পুলিশ বলছে, গ্রেফতারকৃত আসামি প্রতারণা কাজে সিদ্ধহস্ত। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় প্রতারণাসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গুলশান বিভাগের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ (টু-আইসি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আল আমিন হোসাইন। এসময় ডিএমপির মিডিয়া শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নিয়াজ মেহেদী, গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর আবুল বাশারের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একটি প্রতারণা মামলা রুজু হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করলেও চতুর আবুল বাশার বারবার স্থান পরিবর্তন করে পালিয়ে বেড়াতেন।
পরবর্তীতে শুক্রবার রাতে গুলশান থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, আসামি গুলশান-১ এলাকার একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে গত রাতে সেখানে বিশেষ অভিযান শুরু করে গুলশান থানা পুলিশ। দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টার চেষ্টা শেষে শনিবার দুপুরে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃত আবুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সুকৌশলে প্রতারণার জাল বিছিয়ে আসছিলেন। তিনি চাকরির প্রলোভন, আসামি মুক্ত করার আশ্বাস, ভুয়া ব্যবসায় বিনিয়োগ, গাড়ি ও পশুর হাটে প্রতারণাসহ বহু মাত্রিক প্রতারণা করে আসছিলেন।
পুলিশের রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, এর আগেও প্রায় ১০-১১ মাস পূর্বে গুলশান থানা পুলিশের একটি অভিযানে আবুল বাশারের হেফাজত থেকে দুটি চোরাই ও প্রতারণামূলক গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছিল, যা নিয়ে পরবর্তীতে ভাটারা থানায় মামলা হয়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।
বাশারের প্রতারণাকাজে স্ত্রী চিত্রনায়িকা ববির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। এ ধরনের জাল-জালিয়াতির কাজে যে কেউ সংশ্লিষ্ট থাকুক, আমরা তাকে আইনের আওতায় আনব। এক্ষেত্রে কাউকেই আমরা ছাড় দিব না।