বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
মাদকাসক্তি থেকে টেকসই সুস্থতায় চাই সহায়ক পারিবারিক পরিবেশ নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোস্তাক আহমেদ রুহী মোহাম্মদপুরে গ্রেফতার নিখোঁজের এক বছর পর কিশোরী উদ্ধার আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কৃতি ৪শ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান তিন সহযোগীসহ নারায়ণগঞ্জের ‘কুত্তা শ্রাবণ’ গ্রেফতার,বিদেশি পিস্তল ও রামদা উদ্ধার সিরাজগঞ্জে ৬৬ গ্রাম হেরোইনসহ মাদক সরবরাহকারী গ্রেফতার ৮২ লাখ টাকা দুর্নীতির মামলায় শিক্ষক হাসান ইমামের সাজা দায়িত্ব পালনে অবদানের স্বীকৃতি, পিপিএম পদক পেলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহীম হিলচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিযোগের পাহাড়, তদন্তের দাবি উল্লাপাড়ায় এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

মাদকাসক্তি থেকে টেকসই সুস্থতায় চাই সহায়ক পারিবারিক পরিবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: / ৪৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মাদকাসক্তি কোনো অপরাধ বা ইচ্ছাশক্তির অভাব নয়; এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি রোগ। মাদকাসক্তির সঙ্গে মানসিক রোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ডুয়াল ডায়াগনসিস’ নামে পরিচিত। রোগীর টেকসই সুস্থতা ও পুনর্বাসনে পরিবারের সচেতনতা, মানসিক সমর্থন এবং সহায়ক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ৩টায় রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন নারী মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনায় রোগীদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি এডুকেশন মিটিং’-এ বক্তারা এসব কথা বলেন।

“ফ্যামিলি এডুকেশন মিটিং অন দ্য রোল অব ফ্যামিলি অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড ইন সাসটেইনেবল রিকভারি ফ্রম মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড অ্যাডিকশন” শীর্ষক সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আরিফুজ্জামান।

তিনি বলেন, তীব্র মানসিক কষ্ট বা বিষণ্নতা থেকে মুক্তি পেতে কেউ কেউ মাদকের আশ্রয় নিতে পারেন। আবার দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটে গুরুতর মানসিক সমস্যা, এমনকি সাইকোসিসও দেখা দিতে পারে।

ডা. আরিফুজ্জামান বলেন, মাদকাসক্তি ও মানসিক রোগ একসঙ্গে থাকলে রোগীর আচরণে হঠাৎ তীব্র পরিবর্তন, মারমুখী আচরণ কিংবা ওভারডোজের মতো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের উত্তেজিত না হয়ে শান্ত থাকতে হবে। রোগীকে মারধর বা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা যাবে না; প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের সহায়তা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, রিহ্যাব থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর রোগীর সুস্থতা ধরে রাখতে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার প্রয়োজনীয় মানসিক সমর্থন ও সহায়ক পরিবেশ দিতে না পারলে রোগীর পুনরায় মাদক গ্রহণ বা ‘রিল্যাপস’-এর ঝুঁকি বাড়তে পারে।

রোগীকে অতীতের ভুল নিয়ে বারবার দোষারোপ বা অতিরিক্ত সন্দেহ না করে চাপমুক্ত, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মাদকাসক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের চিকিৎসাধীন ক্লায়েন্টদের অভিভাবক এবং ‘মায়ের হাসি’ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ক্লায়েন্টদের অভিভাবকেরা অংশ নেন। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টর এর পরিচালক মহোদয় অভিভাবক এর উদ্দেশ্যে চিকিৎসা, পুনর্বাসন, মানসিক স্বাস্থ্য এবং রোগীর সুস্থতায় পরিবারের ভূমিকা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।

সভায় ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের পরিচালক মহাদয় জনাব ইকবাল মাসুদ, সিনিয়র সাইকোলজিস্ট রাখি গাঙ্গুলী, কেন্দ্র ব্যবস্থাপক লায়লা ইয়াসমিন, কেস ম্যানেজার আফসানা খাতুন ও ফারজানা ডেরোসসহ কেন্দ্রের কাউন্সেলররা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তির চিকিৎসা শুধু মাদক থেকে দূরে রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক পরিবেশ ও পুনর্বাসনকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সচেতন ও সহায়ক পরিবার রোগীর টেকসই সুস্থতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর