শীতের আগমনির সাথে মুখের রুচির ভিন্নতায় আসে পরিবর্তন। বিকেলের নাস্তায় গরম গরম তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে স্বাস্থ্য সচেতন সকলে চায় পুষ্টিকর কিছু।নাস্তায় গরম গরম মিষ্টি আলু খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে নিজের অপূরণীয় ভিটামিনের কিছুটা মেটানো যেতে পারে।
মিষ্টি আলুতে আছে ফাইবার বা আঁশ, ভিটামিন আর খনিজ। এক কাপ (প্রায় ২০০ গ্রাম) সেদ্ধ বা পোড়া মিষ্টি আলু থেকে শরীর পায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ।
বিশেষ করে হলুদ আর বেগুনি রঙের মিষ্টি আলুতে থাকে প্রচুর অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা শরীরকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এই ফ্রি র্যাডিক্যালই বয়স বাড়া, হৃদ্রোগ বা ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে জড়িত।
মিষ্টি আলুতে দুই ধরনের আঁশ থাকে—দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়। এই আঁশ হজমতন্ত্রে গিয়ে মল নরম রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়।
এ ছাড়া আঁশ অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার খাবার হিসেবে কাজ করে। এতে অন্ত্র সুস্থ থাকে, পেট থাকে পরিষ্কার এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে।
বিশেষ করে বেগুনি রঙের মিষ্টি আলুতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন নামের অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট পরীক্ষাগারে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ধীর করতে দেখা গেছে। মূত্রথলি, কোলন, পাকস্থলী ও স্তন ক্যানসারের কোষের ক্ষেত্রে এমন ফল মিলেছে।
তবে মানুষের শরীরে এই প্রভাব কতটা কার্যকর, তা নিয়ে আরও গবেষণা দরকার। তবু নিয়মিত সবজি ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার খেলে যে ক্যানসারের ঝুঁকি কমে, তা বহু গবেষণায় প্রমাণিত।
হলুদ বা কমলা রঙের মিষ্টি আলুতে আছে প্রচুর বিটা ক্যারোটিন। শরীরে ঢোকার পর এটি ভিটামিন এ–তে রূপ নেয়, যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে জরুরি।
ভিটামিন এ–র অভাবে রাতকানা বা চোখের শুষ্কতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত মিষ্টি আলু খেলে এসব ঝুঁকি কমে।
এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে শক্তিশালী রাখে। এ ছাড়া অন্ত্রের আবরণ সুস্থ রাখতে ভিটামিন এ জরুরি, আর অন্ত্র সুস্থ থাকলে শরীরও সংক্রমণের বিরুদ্ধে ভালোভাবে লড়তে পারে।
বেগুনি মিষ্টি আলুতে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সবজি ও ফলসমৃদ্ধ খাবার যাঁরা নিয়মিত খান, তাঁদের বয়সজনিত স্মৃতিভ্রংশ বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম—এমন তথ্যও আছে।
সূত্র: হেলথ লাইন