সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব ও ঢাকার সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) তানভীর আহমেদ।
গত ২ মে প্রচারিত ‘৪০ কোটির বন নিজের নামে, সরকারি কর্মকর্তারাই নাড়েন কলকাঠি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বন বিভাগের জমি শ্রেণি পরিবর্তন করে ব্যক্তি মালিকানায় দেওয়ার অভিযোগে তাকে জড়ানো হয়। তবে তিনি দাবি করেছেন, প্রতিবেদনে প্রচারিত তথ্য সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদপত্রে তানভীর আহমেদ বলেন, প্রতিবেদনে উল্লেখিত জমি কখনোই সংরক্ষিত বনভূমি ছিল না এবং বন বিভাগের নামে কোনো রেকর্ড বা মালিকানাও নেই। বরং সিএস থেকে সর্বশেষ বিআরএস রেকর্ড পর্যন্ত জমিটি ব্যক্তি মালিকানাধীন হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।
এতে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট জমির বিষয়ে বন আইনের ৪ ধারার নোটিফিকেশনকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সিএস ৮৪৩ দাগের মোট ২০ দশমিক ৩২ একর জমির মধ্যে ১৬ দশমিক ৮৩ একর নোটিফিকেশনের অন্তর্ভুক্ত হলেও বাকি ৩ দশমিক ৪৯ একর জমি নোটিফিকেশনের বাইরে এবং তা ব্যক্তি মালিকানাধীন।
তানভীর আহমেদ আরও দাবি করেন, সেটেলমেন্ট আপিল মামলার রায়েও ব্যক্তি মালিকানার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া, কোনো জমিতে ৪ বা ৬ ধারার নোটিশ জারি হলেই সেটি বন বিভাগের মালিকানায় চলে যায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার অভিযোগ, প্রতিবেদককে প্রয়োজনীয় খতিয়ান, আদালতের রায় ও অন্যান্য কাগজপত্র সরবরাহ করা হলেও সেগুলোর কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি তার পাঠানো ব্যাখ্যামূলক ভয়েস বার্তাও প্রচার করা হয়নি। বরং ফোনালাপের অংশবিশেষ কেটে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সাবেক এই ডিসি আরও বলেন, ঢাকায় দায়িত্ব পালনকালে জমির মালিকপক্ষ আশুলিয়া ভূমি অফিসের এক কানুনগোর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই কানুনগোকে বদলির নির্দেশ দেন।
তিনি দাবি করেন, এই জমি সংরক্ষিত বনভূমি নয়—এটি শতভাগ নিশ্চিত জেনেই আমি শ্রেণি পরিবর্তনের আদেশ দিয়েছি।
প্রচারিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি রিপোর্ট প্রত্যাহারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে “অসত্য প্রচারণার বিরুদ্ধে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতে” সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।