সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চাঞ্চল্যকর ৫ বছর বয়সী শিশু হত্যা মামলা ঘটনায় ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার কৃষক সেজে শাহজাদপুর থানা পুলিশ সুনামগঞ্জের হাওর থেকে তাদের গ্রেফতার করেন। এদের মধ্যে দুইজন নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো- উপজেলার গালা ইউনিয়নের মার্জান গ্রামের হাতেম সরদারের দুই ছেলে পেশকার সরদার, হামেদ সরদার এবং হামেদ সরদারের শ্যালক লাল মিয়া। শুক্রবার বিকেলে শাহজাদপুর চৌকি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোসলেম উদ্দিন তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। মৃত শিশু হৃদয় (৫) ফারুক সরদারের ছেলে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে পেশকার ও হামেদ মৃত শিশুর আপন চাচা।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, গত ১৬ এপ্রিল ফারুক সরদারের বাড়ির পাশে টয়লেট নির্মাণ করা নিয়ে বড় ভাই হামেদ সরদারের সঙ্গে প্রথমে হাতাহাতি হয়। কিছুক্ষণ পর সেখানে আসেন আরেক ভাই পেশকার সরদার। একপর্যায়ে শিশু ছেলে হৃদয়ের মাথায় আমীরা মাথায় ধারালো হাঁসুয়ার আঘাত করলে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে মৃত হৃদয়ের বাবা ফারুক সরদার বাদী হয়ে বড় ভাই হামেদ সরদার, তার স্ত্রী, দুই ছেলে, শ্যালক ও আরেক বড় ভাই পেশকার সরদার মিলে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
তিনি আরো জানান, মামলা দায়েরের পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। পরে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে জানা যায়, তারা সুনামগঞ্জে অবস্থান করছে। এরপর থানার এসআই মোমিনুর রহমান, শাহ্ আলম ও এএসআই মোস্তফা কামাল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার হাওর অঞ্চলে চলে যায়। আসামিরা সেখানে কৃষক সেজে ক্ষেতে ধান কাটছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ সদস্যরাও কৃষক সেজে ধান কাটার ছলে তাদের গ্রেফতার করে শাহজাদপুর নিয়ে আসেন। শুক্রবার বিকেলে তিনজনকে শাহজাদপুর চৌকি আদালতে হাজির করা হলে মৃত শিশুর আপন চাচা হামেদ ও পেশকার হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। হামেদ সরদারের দাবি, মূলত ছোট ভাই ফারুককে মারার জন্য হাঁসুয়া দিয়ে কোপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে সরে গেলে ভাতিজা শিশু হৃদয়ের মাথায় কোপটি লেগে সে মারা যায়। জবানবন্দি রেকর্ড করার পর আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।