বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
পতেঙ্গায় অবৈধ ডিজেল মজুদ ও বিক্রির সময় ২ ট্যাঙ্কার জব্দ, আটক ৯ নাজিরপুরে নানা বাড়িতে বেড়াতে এসে খালে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু চারঘাটে সাংসদ আবু সাইদ চাদঁকে সবংর্ধনা ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে কোটি টাকার সামুদ্রিক ইলিশ জব্দ স্বর্ণ চুরি করে নিজেই জুয়েলারি দোকানের মালিক! শিক্ষক শাহ আলমের অনিয়মের তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ, স্থান পরিবর্তনের আবেদন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলন খাজনা আর বাড়তি ওজনে জিম্মি কৃষক, রায়গঞ্জের হাটে সিন্ডিকেটের অভিযোগ তেজগাঁও বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় অপরাধ দমনে অভিযান,গ্রেফতার ৮০ উল্লাপাড়ায় চলতি মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের উদ্বোধন
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

খাজনা আর বাড়তি ওজনে জিম্মি কৃষক, রায়গঞ্জের হাটে সিন্ডিকেটের অভিযোগ

পারভেজ সরকার / ৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ধানের হাটে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত ওজনে ধান ক্রয় এবং খাজনার নামে বাড়তি টাকা ও ধান আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, আড়ৎদার, ক্রেতা, ফড়িয়া ও ইজারাদারদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেটের কারণে তারা প্রতিনিয়ত আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার প্রাচীন ও বড় হাটগুলোর মধ্যে সলঙ্গা, চান্দাইকোনা, নিমগাছীসহ অন্তত ১০টি ধানের হাটে নিয়মিত ধান কেনাবেচা হয়। পাশাপাশি এক শ্রেণির ফড়িয়া ব্যবসায়ী নির্ধারিত কমিশনের ভিত্তিতে গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করেন।

কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মন ধানের ওজন ৪০ কেজি হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রতি মণে ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত ওজনের কম হলে অনেক ক্ষেত্রে ধান কিনতে অনীহা দেখান ক্রেতারা। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকদের বাড়তি ধান দিতে হচ্ছে।

এ ছাড়া ইজারাদাররা ধান বিক্রেতাদের কাছ থেকে খাজনা বাবদ নগদ টাকা আদায়ের পাশাপাশি ধান (তোলা) বাবদ প্রতি মণে দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কৃষকদের ক্ষোভ বাড়লেও প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

চান্দাইকোনা হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, সার, তেল, সেচ ও শ্রমিকের খরচ কয়েকগুণ বাড়লেও ধানের দাম বাড়েনি। ধান বিক্রি করতে গেলেই ব্যবসায়িদের সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়তে হয়।

তেলিজানা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, ঘুড়কা হাটে এক মন ধানে ৩ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান দিতে হচ্ছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই উঠছে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ধান চাষ ছেড়ে দিতে হবে।

আরেক কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, হাটে কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করা হয় না। কষকদের জিম্মি করে ব্যবসায়িরা পকেট ভরে। ধান চাষে খরচ বাড়লেও আমরা লাভের মুখ দেখতে পাই না।

নিমগাছী হাটের এক বিক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, এ হাটে ধান বিক্রি করতে এলে প্রতি মণে ৩ থেকে ৪ কেজি বেশি দিতে হয়। এ ছাড়া ফড়িয়া ব্যবসায়িরা সুযোগ পেলে ধান ওজনের কারচুপি করে প্রতি বস্তায় দেড় থেকে দুই কেজি ধান কম বানায়।” তিনি আরও জানান, কিছু আড়ৎদার ধান কিনে যথাসময়ে টাকা পরিশোধ না করে টালবাহানা করেন এবং বাকিতে ধান নিয়ে থাকেন।

নিমগাছী বাজারের এক আড়ৎদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বছরের পর বছর ধরেই এভাবে ধান কেনাবেচা চলে আসছে। সবাই এভাবেই ব্যবসা করেন। তিনি দাবি করেন, পরিবহন ও বাজার ব্যবস্থাপনার খরচের কারণেই কিছুটা বেশি ওজন নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল মনে করছেন, ধানের হাটে অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং খাজনা ও তোলার নামে অতিরিক্ত অর্থ ও ধান আদায় বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর