“দক্ষ তরুণ টেকসই ডেইরি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের দুগ্ধ শিল্পের উন্নয়ন ও শিক্ষিত যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ব্র্যাক ডেইরি। ব্র্যাক ডেইরি এন্ড ফুড প্রজেক্টের আয়োজনে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার ২৫ জন নির্বাচিত তরুণ ডেইরি উদ্যোক্তাকে নিয়ে “টেকসই ডেইরি উন্নয়ন” শীর্ষক দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ৯টায় বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সাধুবাড়ীতে অবস্থিত ব্র্যাক কৃষি প্রযুক্তি ইন্সটিটিউট (BATI) চত্বরে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়।
কর্মশালায় ডেইরি শিল্পের বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় প্রেক্ষাপট, এ খাতের বিদ্যমান সমস্যা, অপার সম্ভাবনা এবং চ্যালেন্জসমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষকগণ খামারে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অবলম্বন, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং খামার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ডেইরি শিল্প একটি লাভজনক ও সম্ভাবনাময় ব্যবসা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় অনেক শিক্ষিত যুবক এ পেশায় আগ্রহী হচ্ছেন। তবে সঠিক কারিগরি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অভাবে অনেকে লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন, আবার অনেকে বড় বিনিয়োগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। এই তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে ব্র্যাক ডেইরি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের যাতায়াত, থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় ব্যয়ভার ব্র্যাক ডেইরি বহন করছে। প্রশিক্ষণ শেষে সফলভাবে সম্পন্নকারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। ব্র্যাক ডেইরি এন্ড ফুড প্রজেক্টের শাহজাদপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ডা. মোঃ রিয়াজুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ডেইরির প্রোডিউসার সার্ভিস শাখার ম্যানেজার ডা. রিপন মিয়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজার ডা. মারুফ উদ্দিন।
প্রশিক্ষণে এক্সটার্নাল রিসোর্স পারসন হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেশন পরিচালনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. মো. জালাল উদ্দিন সরদার এবং একই বিভাগের প্রফেসর ড. জসীম উদ্দিন।
সমাপনী বক্তব্যে বক্তারা বলেন, তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দেশে বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনই ব্র্যাক ডেইরির মূল লক্ষ্য। দক্ষ উদ্যোক্তারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দুগ্ধ শিল্পে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই ধরনের প্রশিক্ষণ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা জানান।