আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ বাহিনী গঠনের প্রত্যয় নিয়ে দুদিন আগেই শেষ হলো পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬। এবারের পুলিশ সপ্তাহে বাংলাদেশ পুলিশকে আরও মানবিক ও জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। একই সঙ্গে দেশের মানুষের সঙ্গে পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মানবিক পুলিশিংয়ের সেই বার্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে রাজধানীর মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্প আয়োজন করেছে ডিএমপির ট্রাফিক গুলশান বিভাগ।
শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে আয়োজিত এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে পরিবহন চালক ও সহকারীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ব্যস্ত সড়কে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করা শ্রমিকদের অনেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর সুযোগ পান না। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
হেলথ ক্যাম্পে ব্লাড প্রেসার, ব্লাড সুগার, বেসিক আই টেস্টসহ বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসাপত্র ও স্বাস্থ্য পরামর্শও দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন পরিবহন শ্রমিকরা।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মাদ মাসুদ রানা, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জিয়াউর রহমান, এডিসি পহন চাকমা, সহকারী পুলিশ কমিশনার মহাখালী মো. রাসেল রানাসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, “গতানুগতিক পুলিশিংয়ের বাইরে আমাদের সামাজিক দায়িত্বও রয়েছে। পরিবহন শ্রমিকরা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দেশের পরিবহন খাতে বিপুল সংখ্যক মানুষ কাজ করলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও সময়ের অভাবে তাদের অনেকেই নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারেন না। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই ডিএমপির পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পাক্ষিক ভিত্তিতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পরবর্তীতে এটি নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আজ ঢাকা মহানগরীর সাতটি ট্রাফিক বিভাগের ১০টি পয়েন্টে একযোগে এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমাদের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে যেসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক সহযোগিতা করছে, তাদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’
এসময় তিনি শ্রমিকদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ট্রাফিক গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জিয়াউর রহমান জানান, শনিবারের এ ক্যাম্পে শতাধিক পরিবহন চালক ও সহকারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এ স্বাস্থ্য ক্যাম্পে চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা সরঞ্জামসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।