শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং হামসহ বিভিন্ন রোগের জটিলতা ও মৃত্যুহার কমাতে আগামী ২৮ জুন জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হবে।
এ উপলক্ষে সোমবার (২২ জুন) রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অবহিতকরণ ও কর্মপরিকল্পনা সভায় ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধিরা ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক উপাদান। সকল শিশুকে নির্ধারিত সময়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করা গেলে হাম সংক্রমণের জটিলতা ও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। দীর্ঘ বিরতির পর এবার এই ক্যাম্পেইনের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলেও জানানো হয়।
সভায় জানানো হয়, ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬ মাসের কম বয়সী শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানোর (এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং) ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান।
সভায় বিভাগীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, ইউনিসেফের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভাগের অন্যান্য জেলার সিভিল সার্জন ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত হন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ জুন রাজশাহী বিভাগে মোট ২৭ লাখ ৩ হাজার ১২৭ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৩ লাখ ৮ হাজার ২০৬ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৯২১ জন শিশু রয়েছে।
এবার রাজশাহী জেলায় ৩ লাখ ৩ হাজার ১১৭ জন এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬২ হাজার ২৫৫ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। বিভাগে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বগুড়া জেলায়, যেখানে ৫ লাখ ৭ হাজার শিশুকে এ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। সর্বনিম্ন লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে জয়পুরহাট জেলায়, সেখানে ১ লাখ ৩৮ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় অভিভাবকদের নির্ধারিত দিনে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে এসে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানানো হয়।