ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের নানা কূটনৈতিক টানাপড়েন কাটিয়ে সম্পর্ক আবারও উষ্ণতার দিকে এগোচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আগামী বছরের শুরুতে ভারত সফরে আসতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনটাই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি, তার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ শুল্ক আরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ওমান উপকূলে তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। তবে সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের পর সেই দূরত্ব অনেকটাই কমেছে বলে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মোদি ও ট্রাম্পের নেতৃত্বের ধরনে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। তাঁর ভাষায়, দুই নেতা শুধু পরিকল্পনা করেন না, বাস্তবে কাজ করে দৃশ্যমান ফলাফল অর্জন করতে বিশ্বাসী।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় তাঁদের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো—তাঁরা একইভাবে চিন্তা করেন এবং ফলাফলমুখী নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন।’
গোর আরও বলেন, ট্রাম্প ও মোদির ব্যক্তিগত সম্পর্কও ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। দুই নেতার নিয়মিত যোগাযোগ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ইতিবাচক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের প্রতি ট্রাম্পের মনোভাব প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী মোদি—উভয়ের প্রতিই অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদাবোধ পোষণ করেন। তিনি প্রায়ই মোদিকে তাঁর ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।
গোর জানান, ট্রাম্প এখনও তাঁর প্রথম ভারত সফরের স্মৃতি স্মরণ করেন। বিশেষ করে সেখানে জনগণের উচ্ছ্বাস ও প্রাণচাঞ্চল্য তাঁকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছিল, যা তিনি কখনও ভুলতে পারেননি।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গোর বলেন, “প্রেসিডেন্ট আমাকে প্রথমেই জিজ্ঞেস করেছেন, ‘তাহলে আমি কবে ভারত যাচ্ছি?’ তিনি ভারত সফর নিয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী মোদি ইতোমধ্যেই তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।”
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আগামী বছরের শুরুতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভারত সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। সফরের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে তিনি নিজেও চলতি বছরের শেষ দিকে ভারত সফর করবেন।
রুবিও বলেন, ‘ভারত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ অংশীদার ও মিত্র। প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এ ধরনের ব্যক্তিগত বোঝাপড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।