বয়স ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ৪১, আর লুকা মদ্রিচের ৪০। বাস্তবতার সমীকরণ মেলালে অনায়াসেই বলে দেওয়া যায়, চলমান উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপই এই দুই কিংবদন্তির শেষ বিশ্বকাপ। তবে ক্রোয়েশিয়ার মহাতারকা মদ্রিচকে নিয়ে মন্তব্য না করলেও নিজের প্রিয় শিষ্য রোনালদোকে বয়সের ফ্রেমে বাঁধতে নারাজ পর্তুগাল কোচ রবের্ত মার্তিনেস। দুজনের শেষ বিশ্বকাপ কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরিই বললেন, আশা করুন এটা রোনালদোর ‘লাস্ট ড্যান্স’ নয়।
ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে রোনালদোকে নিয়ে সমালোচনা নতুন কিছু নয়। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে এসে সেই সমালোচনার ধার যেন আরও বেড়েছে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পর্তুগাল যখন ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে, তখন জালের দেখা না পাওয়া রোনালদোকে দলের ‘বোঝা’ হিসেবে আখ্যা দিতেও ছাড়েননি অনেকে। যদিও মহাতারকা নিজে মুখে কিছু বলেননি, জবাব দিয়েছেন মাঠেই। পরের ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলকে ৫-০ ব্যবধানের বড় জয় এনে দেন তিনি। কিন্তু কলম্বিয়ার বিপক্ষে পর্তুগাল আবার গোলশূন্য ড্র করতেই সমালোচকরা নতুন করে তোপ দাগানো শুরু করেছেন।
টরেন্টোয় আগামী শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল পাঁচটায় শেষ বত্রিশের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। মহাগুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ের আগে সংবাদ সম্মেলনে যথারীতি সেই পুরনো প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মার্তিনেসকে। তবে এবার প্রশ্নটি ছিল একটু ঘুরিয়ে এটি মদ্রিচ ও রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ কি না। জবাবে পর্তুগাল কোচ অভিজ্ঞদের গুরুত্ব মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, তারা দুজনেই ফুটবলের আইকন এবং তাদের মতো উদাহরণ দলে থাকাটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এটাই যেন রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ না হয়।
এদিকে গ্রুপ পর্বের ওঠানামা পারফরম্যান্সে দলের পর্তুগিজ সমর্থকরা কিছুটা উদ্বিগ্ন। তবে ভক্তদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে মার্তিনেস আশ্বস্ত করেছেন, বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয় এবং তাদের দল শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত। সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে দলের সবাই নিজেদের সবটুকু নিংড়ে দিতে মুখিয়ে আছেন বলেও জানান পর্তুগাল কোচ।