বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর দলটির মাঝমাঠের ব্যর্থতার সমালোচনা করলেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ওয়েন রুনি এবং পর্তুগালের সাবেক তারকা রিকার্দো কোয়ারেসমা। তারা মনে করেন, দুর্দান্ত মাঝমাঠ থাকা সত্ত্বেও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেনি দল।
স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেয় পর্তুগাল। ম্যাচের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। তবে বিদায়ের আড়ালে উঠে এসেছে আরেকটি পরিসংখ্যান, পুরো বিশ্বকাপে মাঝমাঠ থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা পাননি তিনি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জোয়াও নেভেস ও ভিতিনিয়া পুরো টুর্নামেন্টে একটি গোলের সুযোগও তৈরি করতে পারেননি। অন্যদিকে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনিয়া ও নেভেস এই তিনজনের কেউই কোনো গোলে সহায়তা করতে পারেননি। অথচ বিশ্বকাপে পর্তুগাল মোট আটটি গোল করেছে।
এই পরিসংখ্যানের পরই সমালোচনায় মুখ খুলেছেন রোনি। তার মতে, রোনালদোকে দলে রাখলে তার শক্তির জায়গাটাই কাজে লাগাতে হবে।
রুনি বলেন, ‘রোনালদোকে খেলালে তাকে ব্যবহারও করতে হবে। ব্রুনো ফার্নান্দেজের সামনে একাধিকবার সুযোগ ছিল বলটি বক্সে তোলার, কিন্তু সে তা করেনি। রোনালদোর কাছে ৩০ গজ দূরে বল দেওয়ার কোনো মানে নেই। তাকে নির্দিষ্ট এলাকার ভেতরে বল দিন, সেখানেই সে সবচেয়ে বিপজ্জনক।’
একই ধরনের মন্তব্য করেছেন পর্তুগালের সাবেক তারকা রিকার্দো কোয়ারেসমাও। তার মতে, কাগজে-কলমে শক্তিশালী হলেও মাঠে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেনি পর্তুগালের মাঝমাঠ।
কোয়ারেসমা বলেন, ‘আমাদের মাঝমাঠে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের অভাব নেই, কিন্তু এই বিশ্বকাপে তারা খুবই হতাশ করেছে। আক্রমণভাগও ছন্দে ছিল না, রক্ষণভাগও দিশাহীন ছিল। কোচ রোবের্তো মার্তিনেস কখনোই আমার মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগাতে পারেননি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে দলকে সবাই ইতিহাসের সেরা পর্তুগাল বলছিল, সেই দলই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।’
বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত রোনালদো নকআউট পর্বে নিজের দীর্ঘদিনের গোলখরা কাটালেও, দলকে এগিয়ে নিতে তা যথেষ্ট হয়নি। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রোনালদোর পাশাপাশি মাঝমাঠের ব্যর্থতাও পর্তুগালের বিদায়ের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।