প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস উইং নিয়ে সম্প্রতি নানা কথাবার্তা কানে আসছে বলে জানিয়েছেন মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী। তাকে ‘বিকল্প’ হিসেবে ভাবা এবং কোনো পদে দেখতে চেয়ে প্রচারণা চালানোয় তিনি বিব্রত ও বিরক্ত বলেও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে বিকল্প হিসেবে চেয়ে প্রচারণা না চালানোর অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং নিয়ে সম্প্রতি নানা কথাবার্তা কানে আসছে। আমাকে বিকল্প ভেবে কেউ কেউ অতিরিক্ত আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আমার অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই লেখাটি দিতে মন সায় দিল।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিব, ডেপুটি ও সহকারী প্রেস সচিবরা সমন্বিতভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড, নেতৃত্ব ও ভাবমূর্তি জনগণের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে তাদের সাধ্য অনুযায়ী আন্তরিক চেষ্টা করে যাচ্ছেন— অন্তত আমার কাছে তেমনটাই প্রতীয়মান।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রেস উইংয়ের সদস্যদের দীর্ঘদিনের পরিচয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি লেখেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাজের ধরন, একাগ্রতা, রাজনৈতিক দর্শন এবং পেশাদারত্বের সঙ্গে, তাদের দুজন অন্তত দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। এই অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই তাদের কাজের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।
মুশফিকুল ফজল আনসারী আরও বলেন, ভালোর কোনো নির্দিষ্ট সীমা-পরিসীমা নেই। আরও ভালো করার সুযোগ সব সময়ই থাকে। বর্তমান টিম হয়তো কোথাও আরও ভালো করতে পারত; আবার অন্য কোনো টিম এলে সবকিছু আরও ভালো হবে— এমন নিশ্চয়তাও কেউ দিতে পারবেন না।
তাকে কোনো পদে দেখতে চেয়ে প্রচারণা চালানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে অমুক কিংবা তমুক পদে ‘দেখতে চাই’- এমন প্রচার, স্লোগান ও অতিরিক্ত আগ্রহে আমি বিব্রত ও বিরক্ত।
শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, শুভাকাঙ্ক্ষীদের আন্তরিকতার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে; কিন্তু অনুগ্রহ করে আমাকে কেন্দ্র করে এমন কোনো প্রচারণা চালাবেন না, যা কর্মরত ব্যক্তিদের অস্বস্তিতে ফেলে, ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করে কিংবা আমাকে কোনো পদপ্রত্যাশী হিসেবে উপস্থাপন করে।
পদপদবি দেশসেবার একমাত্র পথ নয় উল্লেখ করে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, পদপদবি দায়িত্ব পালনের একটি ক্ষেত্র হতে পারে, কিন্তু দেশসেবার একমাত্র পথ নয়। সত্যিকার অর্থে কাজ করার সদিচ্ছা, সাহস ও দায়বদ্ধতা থাকলে পদপদবির বাইরেও দেশ ও জনগণের জন্য অনেক কিছু করা সম্ভব।
নিজের অতীত ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, নিকট অতীতে যখন আমার কোনো রাষ্ট্রীয় পদপদবি ছিল না, তখনো বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জনগণের ভোটাধিকার এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত ভবিষ্যতের পক্ষে দেশ-বিদেশে নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়ে কাজ করেছি।
প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর আস্থার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার প্রয়োজন, বিবেচনা ও আস্থার ভিত্তিতে যাকে যেখানে উপযুক্ত মনে করবেন, তাকেই দায়িত্ব দেবেন। এ নিয়ে দাবি-সংবলিত প্রচারণা অপ্রয়োজনীয় এবং অস্বস্তিকর।
‘পদ সাময়িক, দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা চিরস্থায়ী’— পোস্টের শেষে এমন বার্তাও দিয়েছেন মুশফিকুল ফজল আনসারী।