শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
উল্লাপাড়ায় সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কাটার অভিযোগ মাটির নিচের গোপন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন ইরানের শীর্ষ জেনারেল চাঁদাবাজির সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের তালিকাও প্রস্তুত হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাউন্ট ফুজিতে ক্লান্ত ছোট ছেলেকে একা ফেলেই পাহাড়ে উঠতে ছুটলেন পরীমণির গাড়ি বিতর্ক: ‘মাসরুর’ নামের বিভ্রান্তির মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া সিরাজগঞ্জ ট্রাফিক পুলিশের ৭ মাসে রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড রাজশাহী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল জব্দ রাজশাহীতে জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ১৫ পুনঃস্থাপন হলো আরএমপির ঐতিহাসিক স্মারক ফলক, অপরাধ দমনে কঠোর নির্দেশ ভূমিমন্ত্রীর আরমানিটোলায় ৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকার পলিথিনের চালান জব্দ
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

পরীমণির গাড়ি বিতর্ক: ‘মাসরুর’ নামের বিভ্রান্তির মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া

অনলাইন ডেস্ক: / ৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
-পরীমণি ও খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু। ছবি: কোলাজ

সম্প্রতি চিত্রনায়িকা তমা মির্জার এবি ব্যাংকে যোগদান ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংক ও বিনোদনজগতের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়। আর সেই সঙ্গে পুরোনো পরীমণি–মাসরুর বিতর্কও আবার সামনে আসে। এ আলোচনায় সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের নাম আবারও নতুন করে উচ্চারিত হচ্ছে। তবে পরীমণিকে বিলাসবহুল গাড়ি উপহার দেওয়ার অভিযোগ তিনি শুরু থেকেই স্পষ্টত অস্বীকার করে আসছেন।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কিছু দাবি এবং গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে, পরীমণির গাড়ি বিতর্কে আলোচিত ‘মাসরুর’ আসলে মাসরুর আরেফিন নন; বরং তিনি খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু। খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রাক্তন স্বামী। পুতুলের সঙ্গে তার বিয়ে ও পরবর্তীকালে বিচ্ছেদের বিষয়টি সকলের জানা।

এই সূত্র অনুযায়ী, বোট ক্লাব কাণ্ডের পরে পরীমণিকে দামি গাড়ি উপহার দেওয়া নিয়ে তৎকালীন ডিবি কর্মকর্তা হারুনের মন্তব্যে খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতুর নামের ইঙ্গিত ছিল। সাংবাদিকদের সামনে এই রাজনৈতিক ভুলটি করার পরপরই মাসরুর হোসেন নামটিকে আড়াল করতে সিটি ব্যাংকের মাসরুর আরেফিনের নামটি সামনে নিয়ে আসেন  ডিবির হারুন। সে সময় তৎকালীন সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের ভাই শওকত আজিজ রাসেলের সঙ্গে হারুনের বিবাদ তুঙ্গে।

তাই সূত্র বলছে, হারুন এখানে একই সঙ্গে দুটি কাজ করেছিলেন—খন্দকার মাসরুর হোসেনকে আড়াল করা এবং এতে সিটি ব্যাংক এমডি মাসরুর আরেফিনকে জড়ানোর মাধ্যমে এই ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী শওকত আজিজ রাসেলের ওপরে প্রতিশোধ নেওয়া। ঘটনার কিছু দিন আগে দুবাইয়ে খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতুর সঙ্গে পরীমণির সাক্ষাতের বিষয়ে নানা আলোচনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা এই ঘটনা জানাজানির পর সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ও মাসরুর হোসেন মিতুর মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। যার জের ধরে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিল বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ওই বক্তব্যে আরও বলা হয়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে এসব আলোচনা বা দাবির সত্যতা তখন স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। পরীমণিকে পরবর্তী সময়ে মামলা ও অন্যান্য আইনি জটিলতায় রাখার পেছনেও প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য ভূমিকা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বয়ানের সারকথা হলো—খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতুকে, অর্থাৎ হাসিনা-কন্যা পুতুলের নামকে, পরীমণি নাম থেকে দূরে রাখতে গিয়ে একই নামের কারণে মাসরুর আরেফিনকে অসম্মান ও অভিযোগের মুখে ফেলা হয়।

পরীমণিকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা দামের মাসেরাতি গাড়ি উপহার দেওয়ার আলোচিত গুঞ্জনে ২০২১ সালের আগস্টে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক মাসরুর আরেফিনের নাম আসার পরে ওই সময় প্রকাশিত সংবাদে তার সঙ্গে পরীমণির কথিত অডিও রেকর্ডে গাড়ি উপহারের প্রসঙ্গ থাকার দাবি করা হয়। দৈনিক ইত্তেফাকে একই প্রতিবেদনে সিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ‘শওকত রুবেল’ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে পরীমণির ঘনিষ্ঠতার কথাও উল্লেখ করা হয়।

২০২১ সালে সংবাদ প্রকাশের পরপরই মাসরুর আরেফিন অভিযোগটি অস্বীকার করেন। তিনি সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, তিনি পরীমণি নামের কাউকে কখনো দেখেননি, তার সঙ্গে কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ নেই এবং পরীমণির ফোন নম্বরও তার কাছে থাকার প্রশ্নই আসে না। মাসরুর আরেফিন তখন বলেন, তার জীবনের বড় অংশ ব্যাংকিংয়ের কাজ এবং সাহিত্যচর্চায় কাটে। তিনি কোনো ক্লাব বা পার্টিতে যান না বলেও দাবি করেন। তার বক্তব্য ছিল, ঢাকার যারা ক্লাবকেন্দ্রিক সামাজিক পরিসরে চলাফেরা করেন, তাদের কেউ তাকে সেখানে দেখেছেন—এমন দাবি করতে পারবেন না।

মাসরুর আরেফিনের পোস্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল সংবাদে ব্যবহৃত ব্যাংক চেয়ারম্যানের নাম। তিনি বলেন, ‘শওকত রুবেল’ নামে সিটি ব্যাংকের কোনো চেয়ারম্যান নেই। তার ধারণা ছিল, প্রতিবেদনে হয়তো ব্যবসায়ী শওকত আজিজ রাসেলের নাম ভুলভাবে লেখা হয়েছে। তার বক্তব্য, ব্যাংক চেয়ারম্যানের পরিচয় পর্যন্ত ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়ে থাকলে একই প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে তোলা গাড়ি উপহারের অভিযোগ কোন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে করা হয়েছিল, সে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

ঘটনার কয়েক দিনের মাথায় ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক তাদের প্রথম পৃষ্ঠায় ভুল স্বীকার করে সংবাদ ছাপে, যেখানে বলা হয়: ‘গত ৮ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে ‘পরীমনি ও পিয়াসার সঙ্গে ২১ প্রভাবশালীর সম্পর্ক’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের এক স্থানে ভুলবশত একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের নাম ছাপা হয়েছে। এ ছাড়া এ সংবাদে একই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে ‘শওকত রুবেল’ নাম ছাপা হয়েছে। এ কথা স্বীকার করতে কার্পণ্য নেই যে, এ দুটি তথ্যই ভুল ছিল। পরীমণির ঘটনার সঙ্গে মাসরুর আরেফিনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তার নামটি ভুলবশত ছাপা হওয়ায় এবং তাতে করে তার ব্যক্তিমর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ায় ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করছে।…সিটি ব্যাংকের এমডির মর্যাদাহানির বিষয়টি ইত্তেফাক গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং এই অনভিপ্রেত ভুলের জন্য তার ও তার পরিবারের কাছে আবারও দুঃখ প্রকাশ করছে।’

পরীমণির গাড়ি বিতর্কে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এই নামের বিভ্রান্তি। সংবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি হিসেবে মাসরুর আরেফিনের নাম এসেছে; তিনি তা অস্বীকার করেছেন, আর সূত্র বলছে- ওই মাসরুর আসলে ছিলেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রাক্তন স্বামী খন্দকার মাসরুর হোসেন মিতু।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর