গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১ হাজার ৩৩০ জন ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফ্রন্টলাইনের বিভিন্ন এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ওপর রুশ সেনাদের ধারাবাহিক অভিযানে এ বিপুল প্রাণহানি ঘটে।
সবচেয়ে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ব্যাটেলগ্রুপ সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা, যেখানে প্রায় ৪১০ জনের বেশি সেনার মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাটেলগ্রুপ ইস্ট ও নর্থের হামলায় আরও বহু সেনা প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
মস্কো আরও জানিয়েছে, সেনা ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি তারা ইউক্রেনের জ্বালানি, পরিবহন ও সামরিক অবকাঠামোগুলোতে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে। রুশ বিমান বাহিনী, ড্রোন ইউনিট ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর যৌথ হামলায় ইউক্রেনের সামরিক এয়ারফিল্ড, লজিস্টিক কেন্দ্র এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পসহ মোট ১৫২টি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিমান হামলা পরিচালনা করতে গেটেবল ড্রোন ব্যবহারের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে কিয়েভ অঞ্চলের ভিশনেভোয়ে শহরের কাছে ‘স্টেলার জেট’ নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক সেন্টারে রাশিয়ার হেরান-৪ সিকার ড্রোন সফল আঘাত হানে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
সামরিক অগ্রগতি ও ভূখণ্ড দখলের বিষয়ে মস্কো দাবি করেছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক এলাকা এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। লড়াইয়ের মুখে খারকিভ অঞ্চলের কাজাচ্যা লোপান এবং দোনেৎস্ক এলাকার পবিত্র শহর স্বিয়াতোগর্স্ক সম্পূর্ণ মুক্ত করেছে রাশিয়ার ব্যাটেলগ্রুপ। বর্তমানে স্বিয়াতোগর্স্কের বিভিন্ন ভবনে তল্লাশি চালিয়ে পলায়নরত বা লুকিয়ে থাকা সেনাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন এই অঞ্চলের সাম্প্রতিক সাফল্য তুলে ধরে জানান যে, গেল এক মাসের ব্যবধানে তারা অন্তত ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ নিজেদের দখলে নিয়েছেন।
সূত্র: তাস