সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

রাজনীতির হিসাব-নিকাশ বদলে দিচ্ছে তারেক রহমানের পথসভা

প্রতিবেদকের নাম / ৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তার প্রত্যাবর্তন শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা রূপ নিয়েছে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক বাস্তবতায়। দেশে ফেরার পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও তাঁকে ঘিরে দেখা গেছে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক স্বাগত।

তৃণমূলের পথসভা, বিভাগীয় মহাসমাবেশ কিংবা হঠাৎ কোনো জনপদে তার উপস্থিতি-সর্বত্রই সৃষ্টি হচ্ছে অভূতপূর্ব গণজোয়ার।

স্লোগানে মুখরিত আকাশ-বাতাস, স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের অংশগ্রহণ স্পষ্ট করে দিচ্ছে-তারেক রহমান কেবল একটি দলের নেতা নন; তিনি হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক।১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর নয়াপল্টনে তারেক রহমানের একটি মহাসমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। তবে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে ঢাকার ১৩টি সংসদীয় আসনে আলাদা আলাদা সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ঢাকার রাজনীতির প্রচলিত হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।

নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে ভোটাররা যখন ভাবছেন কোন প্রতীকে ভোট দেবেন, তখনই তারেক রহমানের পথসভাগুলো নতুন বার্তা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী কয়েকটি গণমাধ্যম সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তার নাম আলোচনায় এনেছে। ঢাকার বিভিন্ন পথসভায় মানুষের ঢল সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

রাজধানীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে তারেক রহমানের পথসভা অনেক ক্ষেত্রেই রূপ নিচ্ছে বিশাল সমাবেশে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে তুলনা করা হচ্ছে ‘রাজনীতির হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’র সঙ্গে, যার ডাকে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পথে নেমে আসছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ঢাকার অন্তত ২০টি সংসদীয় আসনে।শুধু ঢাকা নয়, দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বিএনপির সমাবেশে জনসমাগম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তারেক রহমানকে ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাজনীতি বিশ্লেষক মোবাশ্বের হোসেন টুটুল মনে করেন, নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তৃতানির্ভর রাজনীতির বাইরে গিয়ে সরাসরি জনগণের সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকটিভ যোগাযোগ নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ও ‘We Have a Plan’ স্লোগানের মাধ্যমে আধুনিক ও পরিকল্পনাভিত্তিক রাজনীতির স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রচারণায় পরিমিত ও শালীন আচরণ রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ তারেক রহমানের পরিশ্রমী মানসিকতা ও সময় ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা তুলে ধরে। পাশাপাশি বিরোধী পক্ষের শক্তিশালী ধর্মীয় বয়ানকে সরাসরি মোকাবিলা, তরুণদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে নতুন কৌশল এবং Gen Z-এর সঙ্গে যোগাযোগে জাইমা রহমানের উপস্থিতি তার নেতৃত্বকে আরও দৃশ্যমান করেছে। অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের সঙ্গে পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করে একটি ডাইনামিক টিম গঠনের চেষ্টাও তার রাজনীতিতে স্পষ্ট।

দলীয় ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে তারেক রহমান প্রমাণ করেছেন, ‘We Have a Plan’ কেবল স্লোগান নয়, বরং বাস্তবায়নের জন্য তিনি প্রস্তুত। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় উত্তরাধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তারেক রহমান নিজ যোগ্যতায় প্রস্তুত নেতৃত্ব।

ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে তাঁর ‘ভিশন-২০৩১’ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তৃণমূলের মানুষের বিশ্বাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরবে এবং ভোটাধিকার নিশ্চিত হবে।

তার সাম্প্রতিক ভাষণগুলোতে উগ্রবাদ পরিহার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির বার্তা সুশীল সমাজের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তিনি বারবার উল্লেখ করছেন, দেশ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়; সব ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষের। এই উদার দৃষ্টিভঙ্গি জনমনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

লন্ডনে অবস্থানকালেও প্রযুক্তির সহায়তায় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিটি দিক তদারকি করেছেন তিনি। তার সাংগঠনিক দক্ষতায় বিএনপি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সুসংগঠিত।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থেকেও দলীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং দেশব্যাপী জনসমর্থন ধরে রাখাই তারেক রহমানের অন্যতম বড় সাফল্য।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, সমাবেশগুলোতে মানুষের এই বাঁধভাঙা উপস্থিতি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে-দেশ পরিবর্তন চায়। আর সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে জনগণ তারেক রহমানকেই বেছে নিতে আগ্রহী। এই জনসমর্থনই আসন্ন নির্বাচনে তার রাজনীতির বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

এবার ৫১টি দল ভোটে প্রার্থী দিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে তারা ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চালাতে পারবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর