আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে “অপরাজিতার অগ্রযাত্রা” শীর্ষক এক অনুপ্রেরণামূলক আয়োজন করেছে জেসিআই বাংলাদেশ। বুধবার (১১ মার্চ) বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত রাজধানীর বারিধারার Ascott Palace Dhaka–তে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে কর্পোরেট জগত, সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও বিভিন্ন খাতের পরিবর্তনসাধক ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে এক অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আয়োজনে সফল ও প্রতিষ্ঠিত নারী পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা জেসিআই নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের জন্য শেখা, অনুপ্রেরণা এবং নেটওয়ার্কিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী লুবনা মারিয়াম, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি’র হেড অব লাইবিলিটি অ্যান্ড ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট সারমিন আতিক, অনন্ত টেরেসের কর্ণধার তামান্না রাব্বানি, ২০২৬ গ্লোবাল ট্রেজারার জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনালের সারা কামাল এবং উইমেন ইন লিডারশিপ কমিশনের চেয়ারপারসন জর্জিনা মাতামোরোস।
প্যানেল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন জেসিআই ঢাকা ওয়েস্টের ২০২৬ লোকাল প্রেসিডেন্ট ও সিটিব্যাংক এন.এ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুবাহ আফরিন। আলোচনায় নারী নেতাদের অগ্রগতিতে পুরুষ সহযোদ্ধাদের (Male Allies) সহযোগিতা ও সমর্থনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, নারীদের দৃঢ়তা, অধ্যবসায় ও নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। তবে টেকসই পরিবর্তনের জন্য নারী-পুরুষের পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। কর্মক্ষেত্র, সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও পারিবারিক পরিসর—সব জায়গায় পুরুষদের সক্রিয় সমর্থন নারীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন জেসিআই বাংলাদেশের ২০২৬ ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট আরেফিন রাফি আহমেদ। এছাড়াও বক্তব্য দেন ২০২৪ ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ইমরান কাদির এবং ২০২৬ ন্যাশনাল প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা এরফান হক।
বক্তারা জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠায় সবার সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপনের মাধ্যমে জেসিআই বাংলাদেশ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের পরিবেশ গড়ে তোলা এবং নারীদের সমাজ ও দেশের উন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।