বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ফেয়ারডিল-স্ক্যাফসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বজ্রপাতে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু মুন্সীগঞ্জে গৃহবধূ আছমা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, ঘাতক স্বামী গ্রেফতার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্ত্রী-সন্তানকে গলা কেটে হত্যা কানাডা ও তুরস্কের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু সুনামগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত বাবার শেষ বিদায়েও কি আড়ালেই থাকবেন মোজতবা খামেনি, রহস্য ঘনীভূত সামনে তিনটি পথ, কোন দিকে পা বাড়াবেন নেইমার? ৪৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক পদের পরীক্ষার ফলাফল পুনরায় প্রকাশের নির্দেশ বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করছে ভারতের যে ৯ কোম্পানি
নোটিশ:
তথ্য ও প্রচার মন্ত্রণালয় নিবন্ধনকৃত অনলাইন নিউজ পোর্টাল দ্য পিপলস্ নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকে সারা দেশে জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে। মোবাইল: ০১৭১১-১১৬২৫৭, ০১৭১২-৪০৭২৮২ ' ই-মেইল : thepeopelesnews24@gmail.com

মন্দ কাজ হয়ে গেলে দ্রুত ভালো কাজ করা

অনলাইন ডেস্ক: / ৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬

মানুষের মধ্যে স্বভাবগতভাবেই দুর্বলতা বিদ্যমান। তাই তারা কখনোই সম্পূর্ণভাবে ভুল থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। মানুষের মধ্যে কামনা-বাসনা, ক্রোধ, হিংসা ও নানা প্রবৃত্তি রয়েছে। ফলে তারা কখনো না কখনো ভুল করে বসে।

ইসলাম এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে এবং মানুষের জন্য সংশোধনের পথ দেখায়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আদম সন্তানের প্রত্যেকেই ভুলকারী; আর ভুলকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো যারা বেশি তাওবা করে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৯৯)।

এই হাদিস আমাদের শেখায় মানুষের ভুল করা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই ভুলের পর দ্রুত আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। মন্দ কাজ হৃদয়কে অন্ধকারাচ্ছন্ন করে প্রতিটি গুনাহ মানুষের অন্তরে একটি কালো দাগ সৃষ্টি করে।

যদি তারা তাওবা না করে, তবে সেই দাগ ধীরে ধীরে হৃদয়কে কঠিন ও অন্ধকার করে ফেলে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বরং তারা যা অর্জন করে (গুনাহ), তা তাদের অন্তরের ওপর মরিচা ধরিয়ে দেয়।’ (সুরা : মুতাফফিফিন, আয়াত : ১৪)।

অর্থাৎ পাপ মানুষের হৃদয়ের স্বচ্ছতা নষ্ট করে দেয়। কিন্তু এর চিকিৎসা রয়েছে- সৎকর্ম, তাওবা ও আল্লাহর স্মরণ। তাই যখনই কোনো গুনাহ হয়ে যায়, তখন তার পরে একটি ভালো কাজ করা উচিত। এই নেক আমল গুনাহের প্রভাবকে দূর করে দেয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই সৎ কাজ অসৎ কাজকে মিটিয়ে দেয়। উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য এতে রয়েছে উপদেশ।’ (সুরা : হুদ, আয়াত : ১১৪)। অতএব, ভালো কাজ হলো গুনাহ দূর করার এবং আত্মাকে পবিত্র করার মাধ্যম।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘তুমি যেখানেই থাক আল্লাহকে ভয় করো; কোনো মন্দ কাজ করলে তার পরে একটি ভালো কাজ করো, তা সেই মন্দ কাজকে মুছে দেবে এবং মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯৮৭)।

এই হাদিসে তিনটি মৌলিক শিক্ষা দেওয়া হয়েছে- সর্বাবস্থায় আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করা, গুনাহের পরে নেক আমল করা এবং মানুষের সঙ্গে উত্তম চরিত্রে আচরণ করা।

গুনাহর পরে ভালো কাজ করার উপকারিতা-

গুনাহের পরে ভালো কাজ করার একটি বড় উপকারিতা হলো এটি মানুষের আত্মশুদ্ধির পথ খুলে দেয়। কোনো মানুষ যখন নিজের ভুল উপলব্ধি করে এবং তার প্রতিকারে নেক আমল করে, তখন তার হৃদয় ধীরে ধীরে পবিত্র হয়ে ওঠে।

গুনাহ মানুষের অন্তরে যে অন্ধকার সৃষ্টি করে, সত্কর্ম সেই অন্ধকারকে দূর করে এবং অন্তরে নুরের সঞ্চার ঘটায়। ফলে মানুষ আবার আল্লাহর দিকে ফিরে আসার শক্তি ও সাহস পায়। মন্দের পরিবর্তে ভালো কাজের প্রতি তার আকর্ষণ বাড়তে থাকে এবং তার নৈতিক ব্যক্তিত্ব আরো পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

গুনাহর পরে যে ভালো কাজগুলো দ্রুত করা উচিত-

১. আন্তরিক তাওবা : আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩১)।

২. দুই রাকাত নফল সালাত আদায় : রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গুনাহ করে, তারপর উত্তমরূপে অজু করে দুই রাকাত সালাত আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২১)।

৩. দান-সদকা করা : দান-সদকা গুনাহ মুছে দেয়। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সদকা গুনাহকে নিভিয়ে দেয়, যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।’ (নাসায়ি, হাদিস : ৪২০৮)।

৪. বেশি বেশি ইস্তিগফার করা : আল্লাহ বলেন, ‘আমি বললাম, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি মহাক্ষমাশীল।’ (সুরা : নুহ, আয়াত : ১০)।

৫. মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করা : উত্তম চরিত্রও গুনাহ মোচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রাসুল (সা.) বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২১৩৯২)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর