রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এফডিসির পুরাতন গেটের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী সেলিম হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-২।
র্যাব বলছে, ভাঙারি ব্যবসা ও বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ী সেলিমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় র্যাব-২ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাঈদ মাহমুদ।
কমান্ডার সাঈদ মাহমুদ বলেন, গত রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে এফডিসির পুরাতন গেটের পাশে আর্থিক লেনদেনের দ্বন্দ্ব নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে সেলিমকে আম কাটার ধারালো চাকু দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে একদল দুর্বৃত্ত। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেখা বেগম গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
র্যাব কর্মকর্তা সাঈদ মাহমুদ বলেন, মামলার পর গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে কারওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানের সময় মিজানের কাছ থেকে নিহত সেলিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, ভাঙারি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন ও অন্যান্য বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এজাহারভুক্ত আরেক আসামি রতনের নির্দেশে তারা সেলিমের ওপর হামলা চালিয়েছিল।
গ্রেফতার মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদক এবং ভেজাল ওষুধ-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া ভেজাল ওষুধ মামলায় তার বিরুদ্ধে একটি গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রধান আসামি মকবুল ওরফে মুকুলের বিরুদ্ধে মাদক মামলা, দস্যুতার চেষ্টা এবং বিভিন্ন অপরাধে সহায়তার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।