হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় পাঁচটি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি কাচ্চি ডাইনের চেয়ারম্যান মো. শাহাবুদ্দিন তালুকদার। একই ধরনের পাঁচ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি তার ভাই হাজী মিন্টু তালুকদারও। এতগুলো মামলায় নাম থাকার পরও তাদের গ্রেফতার না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জুলাই আন্দোলনে আহত ও ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় করা পাঁচ মামলার মধ্যে একটি হত্যা মামলা। অন্য মামলাগুলোতে হত্যাচেষ্টা, হামলা, বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবহার, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগে দণ্ডবিধির একাধিক ধারা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারা রয়েছে। এসব মামলায় ফ্যাসিস্টে দোসরদের গ্রেফতার করা হলেও এখনও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন শাহাবুদ্দিন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় করা একটি মামলায় শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪১, ১৪৩, ১৪৮, ৩২৬, ৩০৭, ৪২৭, ৩৪ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। একই বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারির মামলায় ১৪৩, ১৪৯, ১৪৭, ১৪৮, ৩২৬, ৩০৭, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় তাঁকে এজাহারভুক্ত করা হয়।
১৯ ফেব্রুয়ারির মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩এ ও ৬ ধারায় অভিযোগ রয়েছে। ৩ মার্চের মামলায় হত্যা, সংঘবদ্ধভাবে অপরাধসহ বিভিন্ন ধারায় এবং ২৬ মার্চের মামলায় হত্যাচেষ্টা, হামলা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ধারায় তাঁকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের সময় শাহাবুদ্দিন ও তার ভাই আন্দোলনকারীদের বাধা দেওয়া এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এসব অভিযোগের পর তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এতগুলো মামলা থাকার পরও একজন আসামি প্রকাশ্যে চলাফেরা করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তাদের দাবি, মামলাগুলোতে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাচ্চি ডাইনের বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যমতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাচ্চি ডাইনে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসন করছেন এই শাহাবুদ্দিন। এ ছাড়া বরিশালের মুলাদীসহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের মিছিলসহ নানা কর্মসূচিতে শাহাবুদ্দিন ও তার ভাই অর্থসহায়তা করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, জুলাই আন্দোলন ঘিরে যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ও মামলা রয়েছে, তাদের কাউকেই যেন টাকা বা অন্য কোনো প্রভাবের কারণে আইনের আওতার বাইরে রাখা না হয়। শাহাবুদ্দিন ও তার ভাইকে দ্রুত গ্রেফতার করে মামলাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।